বিশ্বজুড়ে বাড়ছে যুদ্ধের দামামা; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ সংঘাতের রেকর্ড

বিদেশে এখন
1

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রীয় সংঘাতের ঘটনা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আজ (মঙ্গলবার, ৮ জুন) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে অন্তত একটি রাষ্ট্র জড়িত এমন সংঘাতের সংখ্যা ছিল ৬৫টি। ১৯৪৬ সালের পর এক বছরে এত বেশি রাষ্ট্রীয় সংঘাত আর দেখা যায়নি। একই সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ২০২৫ সাল ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী বছর। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নরওয়ের ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো’ (পিআরআইও) তাদের বার্ষিক ‘কনফ্লিক্ট ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির গবেষক সিরি আস রুস্তাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণত আমি এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু এবারের সংখ্যাগুলো একেবারেই স্তব্ধ করে দেয়ার মতো।’

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে আটে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৮০ বছরে সর্বোচ্চ। এসব সংঘাতের তালিকায় ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান, আফগানিস্তান-পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের সীমান্ত সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের ৩৫টি দেশ কোনো না কোনোভাবে লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি দেশই একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। উদাহরণ হিসেবে ইসরাইলের কথা বলা হয়েছে, যারা একই সঙ্গে গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইরান এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে।

২০২৫ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে কেবল ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যা এবং ২০২১ সালের ইথিওপিয়ার টিগ্রাই যুদ্ধের সময় এর চেয়ে বেশি রক্তপাত হয়েছিল। গত বছর এই ব্যাপক প্রাণহানির মূলে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ, সুদানের গৃহযুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের নজিরবিহীন বোমা হামলা।

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২০০, যা গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৫০০ জনে। গবেষক রুস্তাদ বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বিশ্বজুড়ে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় সংঘাত চলছে। বিশ্ব এক মুহূর্তের জন্যও শান্তির অবকাশ পাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে সংঘাতের এই উচ্চ তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী।’

পিআরআইও-এর এই গবেষণাটি নরওয়ের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উপসালা কনফ্লিক্ট ডাটা প্রোগ্রাম’ (ইউসিডিপি)-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আফ্রিকা মহাদেশ রাষ্ট্রীয় সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই রয়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপ। তবে অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সংঘাতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেলগুলোর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাত আগের চেয়ে কিছুটা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এএম