মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে প্রস্তাবিত ‘টুরাপ’ স্থগিতে সাত এমপির আহ্বান

‘টুরাপ’ স্থগিতে এমপির আহ্বান
বিদেশে এখন
2

মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগে প্রস্তাবিত ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ) বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাতজন সংসদ সদস্য। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে টুরাপ চালু করা হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় আরেকটি বেসরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ (প্রাইভেট মনোপলি) প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আজ (সোমবার, ২৯ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা প্রশ্ন তোলেন, টুরাপ প্রকল্পটি আদৌ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে কি না এবং কেন বিদ্যমান ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পরিচালনাকারী বেস্টিনেট-কেই আবারও বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, টুরাপ শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিদেশি কর্মী নিয়োগ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে কর্মী মিলিয়ে দেয়া, অভিবাসন প্রক্রিয়া, কর্মীদের চলাচল, নিয়োগ ব্যয়, শ্রম অধিকার এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে আলোচনা ছাড়া বা গোপনে নেয়া উচিত নয়।

সংসদ সদস্যরা স্মরণ করিয়ে দেন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেস্টিনেট ছয় বছরেরও বেশি সময় কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই এফডব্লিউসিএমএস পরিচালনা করেছে। এছাড়া অডিটর জেনারেলের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে সিস্টেমটির ব্যবস্থাপনাকে অসন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তাদের অভিযোগ, এসব উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সরকার ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বেস্টিনেটের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে, যেখানে প্রতি কর্মীর জন্য ফি ১০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২১৫ রিঙ্গিত করা হয়। এখন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে টুরাপের মতো আরেকটি বড় প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন:

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেস্টিনেটের প্রস্তাবে ১২ বছরের চুক্তি, প্রতিটি বিদেশি কর্মীর আবেদনপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত এবং অতিরিক্তভাবে কর্মীর এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ ফি নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

যদিও এসব শর্ত এখনও আলোচনাধীন, তবুও এগুলো ব্যয়, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

এমপিরা জানতে চান, টুরাপ প্রকল্পটি কি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং যদি তাই হয়, তবে কেন উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রকল্পের কনসেশন মেয়াদ, ফি, রাজস্ব বণ্টন, ঝুঁকি ভাগাভাগি, তথ্যের মালিকানা এবং কর্মীদের তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে সরকারকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার আহ্বান জানান তারা।

যৌথ বিবৃতিতে আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলা হয়, টুরাপ চালুর আগে সংসদ ও জনগণের কাছে প্রকল্পের সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে সাত এমপি জানান, মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় অবশ্যই প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন। অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, দালালচক্র ও শ্রমিক শোষণের অবসান ঘটাতে হবে। তবে সেই সংস্কারের অর্থ যেন বহু মধ্যস্বত্বভোগীর পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়া না হয়।

এফএস