কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৪১ বছর বয়সী নাদিয়েমকে ১০০ কোটি রুপিয়াহ (প্রায় ৭২ হাজার ডলার) জরিমানা এবং ৮০৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন রুপিয়াহ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাকার্তা দুর্নীতি আদালত। এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও পাঁচ বছর অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। হার্ভার্ড ফেরত এই উদ্যোক্তাকে এক সময় ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।
রায়ে প্রধান বিচারপতি পুরওয়ান্তো বলেন, নাদিয়েম মাকারিম নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু পক্ষকে বেআইনি সুবিধা দিয়েছেন। বিচারক জানান, নাদিয়েম সচেতনভাবে ‘ক্রোমবুক’ ল্যাপটপ কেনার নীতি পরিচালনা করেছিলেন যাতে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুগলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরালো হয়। একজন মন্ত্রীর শপথের পরিপন্থী এই কাজকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন আদালত।
২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার আগে নাদিয়েম গোজেক প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইন্দোনেশিয়ার প্রথম ‘ইউনিকর্ন’ স্টার্টআপ হিসেবে ১০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। তবে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ক্রোমবুক কেনার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার ১৮ বছরের জেল ও বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এই কেনাকাটায় রাষ্ট্রের ২ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ ক্ষতি হয়েছে এবং নাদিয়েম ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন।
পুরো বিচার চলাকালীন নাদিয়েম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মহামারির সময় শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সরল বিশ্বাসে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল এবং এর কোনো অর্থ তিনি গ্রহণ করেননি। রায়ের পর নাদিয়েম মাকারিম অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়েন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেন। তার সমর্থক ও গোজেক চালকেরা আদালতের বাইরে জড়ো হয়ে এই রায়কে ‘অবিচার’ বলে স্লোগান দেন।





