মার্কিন কূটনৈতিক দক্ষতা পৌঁছেছে তলানিতে— মত বিশ্লেষকদের

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

মার্কিন কূটনৈতিক দক্ষতা একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে। কাতারে ইরানের বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্প জামাতা জেরেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাঠানোর জেরে এমন মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

বিশ্লেষকরা বলেন, ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কাকে বিয়ে করায় কূটনৈতিক যোগ্যতা ছাড়াই এতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন কুশনার। এছাড়াও বৈঠকে অংশ নেয়া অন্যান্য প্রতিনিধিদের পেশাগত কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সমঝোতা স্মারক সই ও কয়েক দফা এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার পরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ ইস্যুতে এখনও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন তেহরান। কাতারের দোহায় বুধবারের দু'পক্ষের পরোক্ষ আলোচনায়ও ঘুরে ফিরে ওঠে আসে এই দুটি ইস্যু।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং তা খুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪ মাস পর হরমুজ খুলে দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হলে একে সফলতার অংশ হিসেবে প্রচার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে জাহাজ চলাচলে হরমুজ এখনও নিরাপদ নয়। যেকোনো সময় হামলা-পাল্টা হামলার শিকার হতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। এমনটাই দাবি, আন্তর্জাতিক ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন কর্মীদের। এরমধ্যেই সেখানকার জাহাজে কর্মরত নাবিকদের জন্য দ্বিগুণ বেতনের ব্যবস্থা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:

হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবির পাশাপাশি তাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন কূটনীতির দৈন্যদশা দেখছে বিশ্ব। ইরানের বাঘা বাঘা সব রাজনীতিবিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারকে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে যার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার একমাত্র যোগ্যতা তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কার স্বামী। এছাড়াও কুশনারের বাবা চার্লস কুশনার ২০০৫ সালে গুরুতর অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০২০ সালে প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমায় ২০২৫ সালে ফ্রান্সে মার্কিন দূত হিসেবে নিয়োগ পান।

এছাড়াও, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পেশাদার কূটনৈতিক দক্ষতার রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কেননা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে উইটকফের সম্পৃক্ততা একেবারেই সাম্প্রতিক। ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে তাঁর নিয়োগ হয়। তার অর্জনের খাতায় উল্লেখযোগ্য কিছু নেই বললেই চলে।

এদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাযেম ঘরিববাদী। যিনি একাধিক ইস্যুতে ইরানের হয়ে কূটনৈতিক দক্ষতার সমাধানের পথ দেখিয়েছেন।

ইএ