ভারতে অতিবৃষ্টি-বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি, মেঘালয় ও অরুণাচলে রেড অ্যালার্ট

ভারতে বন্যা
বিদেশে এখন
0

অতিবৃষ্টি-বন্যায় বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। দীর্ঘস্থায়ী বন্যা থেকে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আসাম। প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে। এরইমধ্যে বন্যাকবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মেঘালয় ও অরুণাচলে জারি রয়েছে রেড অ্যালার্ট।

এছাড়া, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশসহ বেশকিছু রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। এদিকে, কেরালায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।

বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরই ব্রহ্মপুত্রের পানির প্রবাহ বেড়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে দেখা দেয় বন্যা। গেল জুলাইয়ে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে আসামের প্রধান নদীগুলোর পানি উপচে পড়ায় বেশকিছু জায়গায় ভেঙে গেছে বাধ। এতে প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কয়েক লাখ গবাদিপশু ও শত শত ঘরবাড়ি।

গেল কয়েকদিনে একটানা প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে গোটা আসাম রাজ্য। সময় যতই গড়াচ্ছে, বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। এখনো নিখোঁজ অনেকে। বন্যা কবলিত বাসিন্দাদের ঠাঁই মিলেছে রেললাইনের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে। ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়ে মানবেতর দিন পার করছেন তারা।

আসামে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে ৬ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরইমধ্যে রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় মেঘালয়, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশেও রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। এছাড়াও, বিহার, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি রয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। এতে বন্যা, ভূমিধস ও জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যের ইয়েলো অ্যালার্ট জারি রয়েছে।

অন্যদিকে, আগস্টের শুরু থেকে টানা প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যয়ের মুখে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালা। পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। এখনো নিখোঁজ অনেকে। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১১ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে।

শুধু ভারত নয়, গেল দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩০টি বাড়ি। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার বাসিন্দাকে।

এদিকে, জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে ৪ মাত্রার শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে ওকিনাওয়া ও আমামি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে এরইমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইএ