জাপানে রেল দুর্ঘটনা; ট্রেনের ধাক্কায় নিহত স্টেশনের ৪ শ্রমিক

দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল লিমিটেড এক্সপ্রেস
বিদেশে এখন
0

জাপানে রেললাইনে কাজ করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় চার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ রেলব্যবস্থার জন্য পরিচিত জাপানে এমন দুর্ঘটনা একেবারেই বিরল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী টোকিওর উত্তরে কানুমা শহরের শিন-কানুমা স্টেশনে রেললাইন থেকে আগাছা পরিষ্কারের সময় একটি দ্রুতগতির এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় শ্রমিকেরা হতাহত হন। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, চার শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনজনকে ট্রেনের নিচে আটকা অবস্থায় এবং একজনকে প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।

জাপানি সংবাদমাধ্যম জিজি প্রেস জানিয়েছে, নিহত সব শ্রমিকই পুরুষ এবং তাদের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এ দুর্ঘটনায় ট্রেনে থাকা প্রায় ৫০ জন যাত্রীর মধ্যে কেউ আহত হননি।

সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় বগির ওই ট্রেনটি ছিল ‘টোবু নিক্কো লাইন’-এর ‘স্পেসিয়া এক্স’ এক্সপ্রেস, যা গ্রেটার টোকিওর সঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা টোচিগি অঞ্চলের নিক্কোর সংযোগ স্থাপন করে। সম্প্রচারমাধ্যম ‘এনএইচকে’ ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, টোকিওগামী ট্রেনটি শিন-কানুমা স্টেশনে থামার প্রস্তুতির সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ট্রেনে থাকা ৪০ বছর বয়সী এক যাত্রী ‘এনএইচকে’-কে বলেন, ‘আমরা একটি প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। এরপর ট্রেনটি হঠাৎ এমনভাবে ব্রেক কষে থেমে যায় যে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তখন ঘোষণা দেয়া হয়, শব্দের উৎস শনাক্ত করার জন্য ট্রেন থামানো হয়েছে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ আমাদের ট্রেন থেকে নামতে দেয়া হয়নি।’

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেললাইন থেকে আগাছা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত সাতজনের একটি দলের সদস্য ছিলেন নিহত শ্রমিকেরা।

জাপানের রেলব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ হিসেবে পরিচিত। উচ্চমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে দেশটিতে ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল। চলতি শতাব্দীতে জাপানের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৫ সালের এপ্রিলে। সেবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আমাগাসাকিতে ব্যস্ত সময়ে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আছড়ে পড়ে, যাতে ১০৭ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৬৩ সালে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনায় দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে জাপানের বুলেট ট্রেন তথা ‘শিনকানসেন’ চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কে লাইনচ্যুতি বা সংঘর্ষে কোনো যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

এএম