ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে এই কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। তিনি জানান, আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ শুধু আগেভাগে হামলা চালানো নয়, বরং যেকোনো আক্রমণের তাৎক্ষণিক ও আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেয়া।
আকরামিনিয়া জানান, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে তাকে হত্যা বা বন্দি করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা আইনিভাবে শিকারি অস্ত্রের মালিক যেকোনো নাগরিক কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পুরস্কার পাবেন। কোনো নারী এই কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ, অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) করা হবে। এছাড়া ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নিয়ে সামরিক জাদুঘরে সেনাসদস্য বা নাগরিকের নামে সংরক্ষণ করা হবে এবং তাকে নতুন একটি অস্ত্র দেয়া হবে।
সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত করা ও গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’-কে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় অংশ নেয়া সু-২৪ সামরিক বিমানের চার পাইলটের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ কাজেমি নিহত হয়েছেন এবং অন্য তিনজনের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে কাতারের কাছে কূটনৈতিক তাগিদ দেয়া হচ্ছে বলে জানান আকরামিনিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব অনেকটাই কমেছে দাবি করে আকরামিনিয়া বলেন, ওয়াশিংটনকে বাইরে রেখে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিজেদের মতো করে নিরাপত্তা সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগই প্রমাণ করে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



