নেপালে হিমবাহ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯; ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনাসদস্যরা

নেপালের ত্রিশূলীতে কাদা ও আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি
বিদেশে এখন
0

নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে পৌঁছেছে। কাদার স্তূপ ও ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে সেনা ও পুলিশসহ ১৩ হাজারের বেশি সদস্য। এর মধ্যেই চীনের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভোতে কোশি নদীতে নতুন করে হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৬ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলা থেকে ২৮৯ জন, নুয়াকোটে ৯০ জন, কাঠমান্ডুতে ৮৪ জন এবং ধাদিংয়ে ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিতওয়ান জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ১৩২টি মরদেহ।

দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ ও জাতীয় পুলিশের ১৩ হাজারের বেশি সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। দিনভর ৬৯টি হেলিকপ্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে অন্তত ৫৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য এখন জীবন বাঁচানো, নিখোঁজদের সন্ধান করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া।’ তিনি আরও জানান, প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় এখনো ৯১০ জন নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক, নেপাল সেনাবাহিনীর ৪ ৪ জন সদস্য এবং নেপাল পুলিশের ২৮ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সহজ করতে নুয়াকোট জেলার মাইথালি ব্যারেক নামের একটি সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে মূল তল্লাশি ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজের মধ্যেই ভোতে কোশি নদী অববাহিকায় নতুন করে দুর্যোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীন থেকে পাওয়া উপগ্রহ তথ্যের বরাতে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর উজানে ধসে পড়া কাদা ও পাথরের স্তূপে পানি আটকে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। হ্রদে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ায় যেকোনো সময় সেটি ভেঙে নিচের দিকে তীব্র ঢল নেমে আসতে পারে। ফলে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ধসের কারণেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে পড়ার তীব্র আঘাতেই ভূকম্পন তরঙ্গ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ত্রিশূলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার রূপ নেয়।

এএম