ভোটের লড়াইয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। শুক্রবার প্রকাশিত গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, সরকারের পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রস্তাবের বিপক্ষে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে না-ভোটের পক্ষ। যদিও এর আগের জরিপগুলোতে আলোচনার পক্ষে জনসমর্থন কিছুটা বেশি ছিল।
হ্যাঁ-ভোটের পক্ষের প্রচারকারীদের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পার্শ্ববর্তী আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ইইউতে যোগ দিলে দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে। একই সঙ্গে দেশে চলমান উচ্চ সুদের হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যদিকে না-ভোটের সমর্থকদের যুক্তি, ইইউর সদস্যপদ পেলে দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং সমুদ্রে মাছ ধরার নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে পড়বে।
রাজধানী রেইকিয়াভিকে ভোট দেয়ার পর আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্তাদোত্তির সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি দারুণ দিন। এই ভোটাভুটির জন্য আমরা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছি।’ তিনি জানান, ভোটের ফল যা-ই হোক না কেন, তার সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
শনিবারের গণভোটে হ্যাঁ-পক্ষ জয়ী হলে তা কেবল ব্রাসেলসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করবে। তবে চূড়ান্তভাবে জোটে যোগ দেয়ার প্রশ্নে কয়েক বছর পর আইসল্যান্ডবাসীকে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি গণভোটে অংশ নিতে হবে।
২০০৯ সালে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে প্রথমবারের মতো ইইউতে যোগদানের আবেদন করেছিল আইসল্যান্ড। পরে ২০১৩ সালে একটি ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী দল সরকার গঠন করে সেই আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করে। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোনো এই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
আইসল্যান্ডে ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের হার ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এই ভোটের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বর্তমানে ৮ শতাংশ, যেখানে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। হ্যাঁ-ভোটের সমর্থকদের মতে, ইইউতে যুক্ত হলে এবং প্রয়োজনে মুদ্রা হিসেবে ইউরো গ্রহণ করলে এই চাপ কিছুটা কমবে।
তবে অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী গুদরুন হাফস্টেইনসদোত্তির। না-ভোটের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার সমাধান ব্রাসেলস আমাদের হয়ে করে দেবে না। এগুলো আইসল্যান্ডের রাজনীতিবিদদেরই সমাধান করতে হবে।’
আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের ভোটে ইতিবাচক ফল এলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে এবং তা শেষ হতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।





