আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের প্রথম বার্লিন সফর; আমিরাতের পাশে থাকার বার্তা জার্মানির

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
বিদেশে এখন
0

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বার্লিন সফরে দেশটিকে নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে পাশে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি। বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চলমান ইরান সংঘাতের প্রভাবে আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। ডিপিএ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার বার্লিনে ইউএইর প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে স্বাগত জানান জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক নৈশভোজে স্টাইনমায়ার বলেন, ‘বিশ্ব এখন আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং পুরোনো নিশ্চয়তাগুলো ভেঙে পড়ছে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো বিশ্বস্ত ও যৌক্তিক অংশীদার পাওয়া, যারা একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে।’ আমিরাতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, জার্মানি আমিরাতের জন্য এবং আমিরাত জার্মানির জন্য ঠিক তেমনই এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

সফরকালে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রাক-নির্ধারিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সফর চলাকালে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি জলবায়ু, হাইড্রোজেন জ্বালানি, সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে শত কোটি ডলারের কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জার্মানির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো (প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার)।

এর মধ্যে জার্মানি আমিরাতে রপ্তানি করেছে ১ হাজার ১০০ কোটি ইউরোর মেশিনারি ও কেমিক্যাল পণ্য এবং আমদানি করেছে ২০০ কোটি ইউরোর পণ্য। প্রচলিত তেল ও গ্যাসভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে টেকসই ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে আমিরাতের রূপান্তরকে যৌথ বিনিয়োগের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বার্লিন।

এএম