নিউ ইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরো। ঐতিহাসিক ১৪.৬ একর জায়গা নির্মম এক ইতিহাসের সাক্ষী। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বিখ্যাত টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে পড়ছিল এখানেই। ২৫ বছর পর রাষ্ট্রীয় নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের মর্মান্তিক ঐ দিনটিকে। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পেড়িয়ে ফেলেও কতটা আশ্বস্ত হতে পেরেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা- সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত।
শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি স্মরণ-সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সমালোচনায় সরব ছিলেন হামলার নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রী। অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সৌদি আরবকে রক্ষা করে চলছে মার্কিন প্রশাসন। তারা, ৯/১১-এর পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি সরকারকে রক্ষা করাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে।
ভুক্তোভুগীরা জানান, কীভাবে যেন ২৫টি বছর কেটে গেছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের জড়িত থাকা নিয়ে আমরা কোনো সুবিচার পাইনি। তবে, হ্যাঁ। অবশেষে আদালতে পৌঁছাতে পেরেছি এবং প্রমাণ করেছি, সৌদি আরব বিশ্বজুড়ে আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসবাদের এক জঘন্য সংস্কৃতিকে উস্কে দিয়েছে।
এদিকে, ১১ই সেপ্টেম্বর হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে হামলার সময় প্রেসিডেন্সিয়াল ব্রিফিং-এর কয়েক ডজন নথি প্রকাশ করেছে সিআইএ। যেখানে, বিমান ছিনতাইয়ের আগে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা সম্পর্কে সরকারি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা তথ্যের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। নথিতে দেখা যায়, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সম্ভাব্য হামলার হুমকির ব্যাপারে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ একে স্বচ্ছতার ব্যতিক্রমী উদাহরণ উল্লেখ করলেও, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের দাবি, এই হামলার তদন্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং বিচারহীনতার নজির আছে ভুরিভুরি।
যদিও এসব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার পেন্টাগনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করছেন, ৯/১১ এর হামলার ২৫ বছর পরেও ইরানে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিপাবলিকান পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতকে জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পঁচিশ বছর আগে আমরা যে শপথ নিয়েছিলাম তা কখনো ভুলব না। আজ সেই প্রতিজ্ঞাই নবায়ন করছি। এ কারণেই আমরা এখনও লড়ে যাচ্ছি। কোনো বিকল্প নেই। শুধু জয়ী হতে হবে। আমরা জয়ের জন্যই লড়াই করি।
নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পর চাঞ্চল্যকর এক তথ্য সামনে এসেছে। হামলার পর নিউইয়র্কের বাতাসে ভয়াবহ মাত্রায় বিষাক্ত রাসায়নিক থাকা সত্ত্বেও মার্কিন কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে এই সত্য গোপন করেছিলেন। এতে হামলার চেয়ে পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে দাবি করেছে বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম।





