ব্রিকস সম্মেলন: ডলারের আধিপত্য হ্রাস ও বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ভেন্যু
বিদেশে এখন
0

একমুখী বৈশ্বিক ব্যবস্থার নির্ভরতা কাটাতে গড়ে তোলা ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে সদস্য দেশগুলো। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা প্রশ্নে শক্ত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। যাতে স্থান পেয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএমএফ সংস্কার, ডলারের আধিপত্য কমানো, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মোকাবিলা ছাড়াও বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো। যদিও ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধসহ বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে দেশগুলোর।

দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি। বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদহার, জ্বালানি তেলের চড়া বাজারসহ সংকটে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থাও। বিভিন্ন দেশের শুল্কারোপের প্রবণতার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যও এখন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে।

এরকম পরিস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করা ১১ দেশ নিয়ে ব্রিকস জোট। যার নেতারা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম সম্মেলনে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে গ্রহণ করেছেন নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র।

ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্ব, অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা। ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অগ্রযাত্রা। আর মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকস নেতারা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিসহ বেশকিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আইএমএফ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ-আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর স্থায়ী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নত দেশের একচ্ছত্র প্রভাব ভেঙে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশীদারিত্ব নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে। আছে পরিবেশগত বা অন্য কোনো অজুহাতে একতরফা শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার তীব্র সমালোচনা। নেতাদের দাবি, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া যেকোনো দেশের ওপর একতরফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না।

ঘোষণায় এসেছে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতির। সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ, সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি উঠেছে।

বিশ্ববাণিজ্যের আর্থিক লেনদেনে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারে জোর দেয়া হয়েছে ব্রিকসে। দারিদ্র্য বিমোচন ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে যৌথভাবে কাজ করা পাশাপাশি ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অর্থায়নে ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক ও 'স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড' গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো ও আইএইএ-এর অধীনস্থ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয়া হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত ও অপব্যবহার রোধে একটি যৌথ আইনি কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে দেশগুলো।

সবশেষ ভারতে 'ব্রিকস ডিজিটাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর স্মার্ট গ্রিডস অ্যান্ড এনার্জি স্টোরেজ' প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জোট নেতারা। আগামী ব্ছর চীনে ১৯তম ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন হবে।

ইএ