চোখে জল তারপরও মুখে আনন্দের হাসি। কেননা দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়েছে আজ। তাইতো প্রিয়জনকে দেখা মাত্রই দৌড়ে ছুটে গেলেন বন্ধু ও স্বজনেরা।
একজন নাবিকের স্বজন জানান, ‘আমাদের বিবাহবার্ষিকী, বড়দিন এবং সব উৎসবগুলো মিস করেছি। তার সঙ্গে আবার সেই দিনগুলো কাটানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
এটা অবিশ্বাস্য এবং অসাধারণ লাগছে। ওদেরকে খুব মিস করছিলাম। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।তাই বাড়ি ফিরে খুব খুশি লাগছে।
ব্যাপারটা অবাস্তব লাগছে। আমি খুবই খুশি। প্রায় এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার ফিরে আসায় আমরা খুব আনন্দিত।
এ চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান দিয়েগো বন্দরের চিত্র। দশ মাসের বেশি ধরে সমুদ্রে অভিযানের পর নিজ ভূমিতে ফিরে এসেছে বিমানবাহী রণতরী বহুল আলোচিত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। বৃহস্পতিবার বন্দরে নোঙর করার পরই একে একে নামতে থাকেন সেখানে অবস্থানরত নাবিক ও মেরিন সেনারা। সঙ্গীত পরিবেশনা, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাদের। দেয়া ফুলের শুভেচ্ছাও।
গেল বছরের নভেম্বরে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে ইউএসএস আব্রাহাম জাহাজটি স্যান দিয়েগোর মূল বন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়।
পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে রণতরীটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া সেনাসদস্যদের মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে টানা ২৭০ দিন সমুদ্র কাটানোর পর থাইল্যান্ডের পাতায়ায় কয়েকদিনের যাত্রাবিরতি করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। আর মার্কিন নাবিকদের আগমন নিয়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।





