তীব্র তুষারপাতের মধ্যেই জাপানে শুরু আগাম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

জাপানে তুষারপাতের মধ্যেও ভোটগ্রহণ চলছে
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

তীব্র শীত আর তুষারপাতের মধ্যেই জাপানে চলছে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের আগাম নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনে মধ্যে ৩০০ বেশি আসন জিততে পারে সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট।

ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। রাস্তায় জমে আছে বরফ। ভোর থেকে চলছে তুষারপাত। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জাপানে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ (রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে অংশগ্রহণ।

এবারের সাধারণ নির্বাচনে নিন্মকক্ষের ৪৬৫টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ক্ষমতাসীন এলডিপির নেতৃত্বাধীন জোট ও প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স। গেল ৫ বছরে জাপানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ৪ জন। আর, শেষ দুই বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।

ক্ষমতাগ্রহণের ১১ মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ২০২৫ এর সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু। অক্টোবরে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান সানায়ে তাকাইচি।

জনপ্রিয়তা আর রাজনৈতিক উত্থানকে কাজে লাগিয়ে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করেই আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। গেল ২৩ জানুয়ারি ভেঙে দেন পার্লামেন্ট।

আরও পড়ুন:

বিভিন্ন জরিপের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনে মধ্যে ৩০০টির বেশি আসন জিততে পারে সানায়ে তাকাইচি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এলডিপির জোট। যেখানে তাকাইচির লিবারেল পার্টি একাই জিততে পারে ২৩০টির বেশি আসনে। যদিও গেল বছর দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এলডিপি।

গেল সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ জাপানে আগাম ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় ২.৫ শতাংশ কম।

সাধারণত জাপানে যে দল বা জোট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তাদের দলীয় প্রধানই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে আলাদা আলাদা ভোট হয়। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট পান, তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন। তবে এখানে নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কর ছাড় ও সরকারি ভতুর্কির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন এলডিপির প্রধান সানায়ে তাকাইচি। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ভোটারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর, তাইওয়ান ইস্যুতে চীন বিরোধী অবস্থানের কারণে তাকাইচির প্রতি সমর্থন আছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। শুক্রবার তাকাইচিকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানরা সচরাচর কোনো প্রার্থীকে এভাবে সমর্থন দেন না।

এএম