দুর্নীতি আর লুটপাটে তৃণমূলের ভরাডুবি দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের

মমতা ব্যানার্জি (ফাইল ছবি)
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

এসআইআর, আর্থিক দুর্নীতি, দলীয় নেতাকর্মীদের লুটতরাজ ও আকাশচুম্বী সম্পদ অর্জনকে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ হিসেবে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এছাড়াও, সেকেন্ড হাইকমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খবরদারি জোড়াফুল শিবিরে বাড়ায় অস্থিরতা। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন অনেক প্রবীণ নেতা।

কোচবিহার থেকে বীরভূম, হাওড়া থেকে নদীয়া সর্বত্রই গেরুয়া ঝড়ে ভেঙে গেছে মমতার ১৫ বছরের শাসনামল। নির্বাচনি জনসভা শুরুর পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি ছিলো, মা, মাটির মানুষের সরকারকেই ৪র্থ মেয়াদে বেছে নেবে বাংলার মানুষ। তবে ফলাফলে ভরাডুবিতে তৃণমূলের ব্যর্থতার কারণগুলো খুঁজতে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

আনন্দবাজার বলছে, সবুজের মহাপতনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এসআইআর। কেননা নথি সংক্রান্ত অসঙ্গতির জন্য, যাদের নাম বাদ পড়েছিলো তাদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু ভোটার। বিশ্লেষণ বলছে, বরাবরই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের একটি বড় ভোটব্যাংক সংখ্যালঘু ভোটার। তবে এসআইআরের কারণে এবার শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় তৃণমূল।

তৃণমূলের হারের আরেকটি বড় কারণ অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মীর দাদাগিরি ও আর্থিক দুর্নীতি। শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা, গরু, কয়লা ও পাথর পাচার, রেশন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ হাজারও অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে; এর জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। জেল খাটেন জোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্রবীণ নেতাও।

আরও পড়ুন

এছাড়াও, ইডির জেরার মুখে পড়েন ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, নুসরাত জাহানের মতো হেভিওয়েট তৃণমূল নেতারাও। পাশাপাশি দলীয় নেতাদের আকাশচুম্বী সম্পদ অর্জন জনমনে বাড়িয়েছে ক্ষোভ- অসন্তোষ।

এছাড়াও, তৃণমূল হারায় বিশ্লেষকদের কাঠগড়ায় মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দবাজার বলছে, দলে নবীন-প্রবীণ বিভেদ তৈরি করেছেন অভিষেক নিজেই। ২০১১ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রবীণদের ৬৫ বছরের পর রাজনীতি থেকে অবসর নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুরু হয় ভাঙনের সুর। দল থেকে বেরিয়ে যান শিশির অধিকারী, তাপস রায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতা। পর্দার আড়ালে চনে যান মদন মিত্রের মতো প্রবীণ তুর্কিরাও।

পাশাপাশি তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকও তৃণমূলের ব্যর্থতার কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা অভিষেকের আইপ্যাক মডেলের কারণে জেলা পর্যবেক্ষকের পদ তুলে নেন মমতা। দূরত্ব বাড়ে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের।

অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ড, সন্দেশখালীসহ মমতা সরকারের শাসনামলে নারীদের প্রতি হওয়া অন্যায়-অত্যাচার এবং রাজ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবার বাংলার ভোটাররা ইভিএমে দিদির অপেক্ষা মোদিকে এগিয়ে রেখেছেন।

জেআর