ভারতের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মানেই যেন একের পর এক চমক। নির্বাচনে আসাম, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুজুড়ে কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তবে সব ছাড়িয়ে কেরালা বিধানসভায় প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ফাতিমা তাহিলিয়া। ফাতিমা তাহিলিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রবীণ নেতা টিপি রামকৃষ্ণ। নির্বাচনে সিপিএমের শক্ত ঘাঁটিতে বামপন্থী এই প্রবীণ নেতাকে ফাতিমার চ্যালেঞ্জ বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
কোঝিকোড জেলা আদালতের আইনজীবী ফাতিমা ২০২০ সালে সিটি করপোরেশনের কুট্টিচিরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তাহিলিয়া। মুসলিম নারীদের শিক্ষার অধিকার নিয়েও কাজ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পেরাম্ব্রা আসনে মোট ৮১ হাজার ৪২৯ ভোট পান ফাতেমা। পাঁচ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে টিপি রামকৃষ্ণকে হারান তিনি। ৩২ বছর বয়সী এই নেত্রীর কাছে রামকৃষ্ণের এ পরাজয়কে বাম শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেখানে ২০২১ সালের নির্বাচনে একই আসনে রামকৃষ্ণ ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্টভাবে দুই প্রজন্মের তীব্র লড়াই দেখা গেছে। যেখানে ইউডিএফ এবং এলডিএফ দুই দলেই তরুণ নেতারাই বয়স্ক ক্ষমতাসীনদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।
আরও পড়ুন:
ধর্মীয় রক্ষণশীল মতাদর্শের কারণে আইইউএমএল এত দিন নারীদের রাজনীতিতে সুযোগ না দেয়ার পক্ষেই থেকেছে। এর আগে জেতার মতো শক্ত আসনেও নারীদের প্রার্থী না করার জন্য ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগকে সমালোচনার মুখে পরতে হয়। কিন্তু তাহিলিয়ার জয় তাদের পুরনো ভাবনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ধীরে ধীরে দলটি রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাচ্ছে।
কেরালায় ফাতিমা তাহিলিয়া আইইউএমএলের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করলেন। কেরালা বিধানসভার ইতিহাসে পেরাম্ব্রার ভোটারদের এই রায় দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





