ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ফের আন্দোলনের ঘটনায় শিরোনামে ভারত। এবার বিক্ষোভকারীদের কাঠগড়ায় দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
শুক্রবার সিইসির পদত্যাগ ও গ্রেপ্তার দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভে নামে কংগ্রেসের যুব সংগঠনসহ কয়েকটি বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা। ইস্তফার পর সিইসি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে তা রুখে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন কংগ্রেসের যুব সংগঠনের সভাপতি।
কংগ্রেসের যুব শাখার সভাপতি উদয় ভানু চিব বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে প্রতিটা বিমানবন্দরে মানবঢাল হয়ে দাঁড়াবে যুব কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। আপনি কোনভাবেই পালাতে পারবেন না। ১৩ কোটি নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন সিইসি।’
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে। যদিও পুলিশের দাবি, আন্দোলনের অনুমতি না থাকায় তাদেরকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বিহারের পাটনা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে আসাম, উত্তর প্রদেশ, চণ্ডীগর ও ওড়িশাতেও। আটক করা হয়েছে আসাম কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে।
আরও পড়ুন:
আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে প্রায় ১৪ শতাংশ ভোটাররের নাম বাদ দিয়েছেন যা পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্রসহ ছয়টি রাজ্যের সাম্প্রতিক ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।’
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার ককরোচ জনতা পার্টিও। শনিবারের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয় সিজেপি। শুক্রবার দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স পোস্টে জানায়, এবার আর দিল্লির যন্ত্রর-মন্তর নয়, শনিবারের মধ্যে সিইসি ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে শুরু হবে বিক্ষোভ-সমাবেশ, যা ছড়িয়ে দেয়া হবে ভারতজুড়ে।
গত বুধবার ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতজুড়ে সিইসি হটাও গুঞ্জনের শুরু। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেল ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি।
এছাড়া বহুল আলোচিত নিবিড় ভোটার সংশোধনী বা এসআইরের মাধ্যমে লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের দিকে।
যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনকে একপাক্ষিক ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছতা রক্ষা ও আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দ্য হিন্দু-কে জানিয়েছে ইসি।





