বাণিজ্য যুদ্ধ আর শুল্কের বাধায় স্থবিরতা ঘনিয়ে আসছে বিশ্ববাণিজ্যে। এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের জন্য কৌশলগত বাজারের কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনা বাড়ছে তেল ও খনিজসমৃদ্ধ পারস্য অঞ্চলের।
শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাত আর ওমানের সাথে চুক্তির পর, মূল্যবান রত্ন, ধাতু, রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি করে ২০২৪-২৫ সালে জিসিসি'র সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পৌঁছায় ১৭ হাজার ৯শ' কোটি ডলারে। এবার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ পশ্চিম এশিয়ার ছয় দেশ নিয়ে গঠিত জিসিসি'র সাথেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে নয়া দিল্লি।
সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন পারস্য দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে থাকে ভারত। রপ্তানি করে মুক্তাসহ বিভিন্ন মূল্যবান রত্ন, ধাতু, অলঙ্কার, বৈদ্যুতিক পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, রাসায়নিক ইত্যাদি।
আরও পড়ুন:
২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে আমদানি-রপ্তানি দু'টোই বেড়েছে ভারতের। গেলো অর্থবছরে ভারতের তৃতীয় ও পঞ্চম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল যথাক্রমে আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি'র প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি তো বাড়বেই; মিলবে জোটের সবগুলো দেশের কাছ থেকে সব ধরনের শুল্কমুক্তি। একইসঙ্গে ভারতকে জ্বালানি নিরাপত্তা আর এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দিয়েছে তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে এগিয়ে থাকা জিসিসি।
বিনিময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত খাদ্য নিরাপত্তায় অংশীদার হবে জিসিসি'র। মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটি হলে জিসিসি'র বাজারে সুযোগ বাড়বে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতেরও।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান, এমনকি শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকেও ছাড়িয়ে, বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার পারস্য উপসাগরীয় জোট জিসিসি। নতুন করে আলোচনা ও সমঝোতার ফলে, এ অঞ্চলটিই ভারতের পরবর্তী বড় বাজার হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।





