মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় চলমান যুদ্ধবিরতি এবং বোর্ড অব পিস গঠনের পরও ইসরাইলি বাহিনীর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গাজাবাসী। এতে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৭১ হজার ৮শ। এরমধ্যে ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ৫৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি হত্যা করেছে নেতানিয়াহুর সেনারা।
এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘এই জীবনে আর কোনো আশা নেই। আমরা আরেকটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছি, যেখানে যুদ্ধবিরতির কথা বলেও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। এ কেমন যুদ্ধবিরতি?’
দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানি বাড়ার পাশাপাশি প্রকট হচ্ছে মানবিক সংকটও। বোমাবর্ষণে সরবরাহ লাইন ভেঙে পড়ায় তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি গাজা সিটির লাখ লাখ বাসিন্দা।
আরও পড়ুন:
বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ইসরাইলি বোমাবর্ষণের ফলে গাজার পরিবহন অবকাঠামোয় আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রায় ৮১ শতাংশ সড়ক নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচল যেমন নিরাপদ নয়; তেমনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পায়ে হেঁটে চলাচলও বিপজ্জনক বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
এমন সংকটের মুখে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শুক্রবার বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ইয়েমেনের হাজার হাজার মানুষ। এসময় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ এর বৈঠক পরিকল্পনা করেছে হোয়াইট হাউজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডে থাকা চার দেশের কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস। যেখানে গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের অ্যাজেন্ডা আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আকদিন আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর।
এদিকে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে মানবিক ত্রাণ বোঝাই নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। যাত্রা শুরু হবে বার্সেলোনা থেকে।





