নিজের পররাষ্ট্র নীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর তার এই বেপরোয়া আচরণ দিন দিনই তীব্র হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে আসার পর নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এমনকি ভেনেজুয়েলার শাসনভার এবং দেশটির তেল সম্পদও নিজের দখলে রাখার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বেপরোয়া আচরণে আতঙ্কে লাতিন অঞ্চলের দেশগুলো। ট্রাম্পের রাজনীতি শুরুই হয়েছিল মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়ে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে আমেরিকা উপসাগর ঘোষণা করেন।
ট্রাম্পের দাবি, মাদক ও অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে ব্যর্থ মেক্সিকো। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন তিনি। তবে মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেনাবাউম।
ভেনেজুয়েলায় অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে নিজের দিকে খেয়াল রাখার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। দেশটিতে তেলের ব্যাপক মজুত ছাড়াও স্বর্ণ, রূপা, প্লাটিনাম, কয়লাসহ মূল্যবান খনিজ রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্টের আস্কারায় মাদক চক্র বিস্তৃত হচ্ছে। তাই যেকোনো সময় দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ রক্ষায় প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।
ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে। দেশটির ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল আসে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা থেকে। মাদুরোর সঙ্গে কিউবার সম্পর্ক ছিল গভীর। ট্রাম্পের দাবি, কিউবায় শিগগিরই সংকট শুরু হবে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চললে যুক্তরাষ্ট্র কড়া আঘাত করবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এছাড়া, সম্প্রতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকেও ২০২৬ সালে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন।
ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে আবারও তৎপরতার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড তাদের প্রয়োজন বলে জানান ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই দ্বীপটি বিরল খনিজ সম্পদে ভরপুর। যদিও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপ।





