এদিকে, বিদেশি কোনো এজেন্ট ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাভার পরিচালনা করবে না বলে সাফ জানান দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এছাড়া, মার্কিন হামলায় নিহতদের স্মরণে সপ্তাহব্যাপী শোক ঘোষণাও করেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের জন্য মানবিক করিডর খোলার কথা ভাবছে পেরু ও চিলি।
ধীরে ধীরে সামনে আসছে কারাকাসে শনিবারের (৩, জানুয়ারি) মার্কিন হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য। শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অন্য প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে কথা না বললেও, ভেনেজুয়েলার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর হামলায় প্রাণ গেছে ৫৭ জনের। এদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ২৩ ও কিউবার ৩২ সেনা রয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প নিজেও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। কিন্তু যতদূর জানি, কিউবার অনেক সেনা নিহত হয়েছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
এদিকে, মার্কিন হামলায় নিহত সেনা সদস্যদের স্মরণে ৭ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এছাড়া, কারাকাসের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া বক্তব্যে ডেলসি জানান, ভেনেজুয়েলার শাসনভার পরিচালনা করবে না কোনো বিদেশি এজেন্ট ।
আরও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ ঈশ্বর নির্ধারণ করেছে। সুতরাং, যারা আমাকে ভয় দেখাতে চায় তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, ভেনেজুয়েলার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানি। সব ধরনের আক্রমণ, চ্যালেঞ্জ ও হুমকি মোকাবিলায় আমরা জাতীয় ঐক্য বজায় রাখবো।’
ভেনেজুয়েলায় হামলার আগে ট্রাম্প বারবার দাবি করেন, দেশটির তেল সম্পদের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু মাদুরোকে উৎখাতের পর, কারাকাসের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিতে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার এক্স বার্তায় এবার তিনি দাবি করলেন, চুক্তি অনু্যায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার। বাজারমূল্যে বিক্রি হবে এ তেল। পুরো এ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করবেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যই ব্যবহার করা হবে বলেও সামাজিক মাধ্যমে জানান ট্রাম্প।
শনিবারের (৩, জানুয়ারি) হামলার ছাপ পড়েছে ভেনেজুয়েলার জনজীবনেও। ভয়ে-আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। এছাড়াও, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কারাকাসের অনেক বাসিন্দা কলম্বিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন। এ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে কলম্বিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সংকটময় পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের আশ্রয়ে মানবিক করিডর খোলার কথা ভাবছে পেরু ও চিলি।




