নতুন পে-স্কেল ২০২৬: শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর সুপারিশ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ!

পে-কমিশন
দেশে এখন
0

দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো (Independent Salary Structure)। নবম পে-স্কেলে (9th Pay Scale) স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরা এই দাবি জানিয়ে আসলেও শেষ মুহূর্তে এসে বড় ধরনের দুঃসংবাদ (Bad News) দিয়েছে পে-কমিশন (Pay Commission)।

একনজরে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর আপডেট

বিষয়সর্বশেষ তথ্য
মূল দাবিস্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো (Independent Salary Structure)।
পে-কমিশনের অবস্থানস্বতন্ত্র কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয় (Not in Jurisdiction)।
কমিশনের কাজশুধুমাত্র বিদ্যমান সরকারি বেতন গ্রেড (Salary Grades) পরিবর্তনের সুপারিশ করা।
জটিলতাস্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর বিষয়টি মূলত সার্ভিস কমিশনের (Service Commission) দায়িত্ব।
সুপারিশ জমার শেষ সময়১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)।
শিক্ষক নেতাদের সিদ্ধান্তকমিশন সুপারিশ না করলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের (Elected Government) কাছে দাবি জানানো হবে।

আরও পড়ুন:

পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সীমাবদ্ধতা (Decision and Limitations of Pay Commission)

পে-কমিশন সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের জন্য একটি আলাদা বেতন কাঠামোর বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে ইতিবাচক থাকলেও এটি তাদের আইনি এখতিয়ারের (Jurisdiction) মধ্যে পড়ে না। কমিশনের প্রধান কাজ হলো বিদ্যমান সরকারি বেতন গ্রেডের (Existing Salary Grades) পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করা।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর বিষয়টি মূলত সার্ভিস কমিশনের (Service Commission) এখতিয়ারভুক্ত। ফলে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশে শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো কাঠামোর প্রস্তাব করার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:

শিক্ষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া (Reaction from Teacher Leaders)

পে-কমিশনের এই অবস্থানে গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (UTAB) সভাপতি এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (Vice-Chancellor) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের (Separate Pay Scale) দাবি জানিয়েছিলাম এবং কমিশনের চেয়ারম্যানও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। এখন যদি সুপারিশে এটি না থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।’ তিনি আরও জানান, কমিশন সুপারিশ না করলেও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের (Elected Government) কাছে এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।

সুপারিশ জমা দেওয়ার সময়সীমা (Deadline for Pay Scale Recommendation)

গত জুলাই মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার (Interim Government) একটি পে-কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) এর মধ্যেই কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

নবম পে-স্কেল ২০২৬ নিয়ে পে-কমিশনের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব এবং কমিশনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

নবম পে-স্কেলে সম্ভাব্য বেতনের তালিকা (খসড়া)

পে-কমিশন এবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করছে। এর মানে হলো সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। কমিশনের সামনে সর্বনিম্ন বেতনের তিনটি প্রস্তাব রয়েছে: ১৬,০০০ টাকা, ১৭,০০০ টাকা এবং ২১,০০০ টাকা।

গ্রেডপদের ধরন (সম্ভাব্য)বর্তমান মূল বেতন (২০১৫)প্রস্তাবিত মূল বেতন (২০২৬)
১মসচিব/সমমান৭৮,০০০১,৬০,০০০
৫মউপ-সচিব/সমমান৪৩,০০০৮৩,০২০
৯ম১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা (এন্ট্রি)২২,০০০৫২,০০০
১০ম২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা১৬,০০০৪৫,০০০
১১তমউপ-সহকারী কর্মকর্তা১২,৫০০৪০,০০০
১৩তমসহকারী শিক্ষক (প্রাথমিক)১১,০০০৩২,০০০
২০তমঅফিস সহায়ক/এমএলএসএস৮,২৫০২০,০০০

আরও পড়ুন: নবম পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত ২১ জানুয়ারি, সর্বনিম্ন বেতন হতে পারে ২১ হাজার টাকা

শিক্ষকদের প্রস্তাবিত স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো (একনজরে)

শিক্ষক সংগঠনগুলোর (যেমন ইউট্যাব এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট) পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেলে শিক্ষকদের জন্য যে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি জানানো হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:

বিষয়ের ধরণদাবিকৃত বিবরণ
বেতন সীমাসর্বনিম্ন ৩০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকা।
১ম গ্রেড (অধ্যাপক/সিনিয়র)১,৫৬,০০০ টাকা (মূল বেতন)।
৯ম গ্রেড (লেকচারার/এন্ট্রি পদ)৫৫,০০০ টাকা (মূল বেতন)।
১০ম গ্রেড (সহকারী শিক্ষক/অন্যান্য)৫০,০০০ টাকা (মূল বেতন)।
বাড়ি ভাড়া ভাতামূল বেতনের ৪০% থেকে ৭০% (সরকারি হার অনুযায়ী)
উৎসব ও বৈশাখী ভাতামূল বেতনের ১০০% (বর্তমানে এমপিওভুক্তরা ২৫% পান)
চিকিৎসা ভাতামাসিক ১,৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
অবসরকালীন সুবিধাকল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর তহবিলের টাকা ৬ মাসের মধ্যে প্রদান।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসরকারি রেশন সুবিধা এবং শিক্ষা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান।

আরও পড়ুন:

গ্রেডভিত্তিক প্রস্তাবিত বেতনের বিস্তারিত তালিকা

শিক্ষক সংগঠনগুলোর ১০ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডের জন্য দাবিকৃত মূল বেতন নিচে দেওয়া হলো:

গ্রেডপ্রস্তাবিত মূল বেতন (টাকা)গ্রেডপ্রস্তাবিত মূল বেতন (টাকা)
১ম গ্রেড১,৫৬,০০০৮ম গ্রেড৬২,০০০
২য় গ্রেড১,৪০,০০০৯ম গ্রেড৫৫,০০০
৩য় গ্রেড১,২৫,০০০১০ম গ্রেড৫০,০০০
৪র্থ গ্রেড১,১০,০০০১১তম গ্রেড৪৫,০০০
৫ম গ্রেড৯৫,০০০১২তম গ্রেড৪০,০০০
৬ষ্ঠ গ্রেড৮০,০০০১৩তম গ্রেড৩৫,০০০
৭ম গ্রেড৭০,০০০১৪তম গ্রেড৩০,০০০

নবম পে-স্কেল ও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর(FAQ)

প্রশ্ন: শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে পে-কমিশনের বড় দুঃসংবাদটি কী?

উত্তর: পে-কমিশন জানিয়েছে, শিক্ষকদের জন্য আলাদা বা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো তৈরি করা তাদের আইনি এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি মূলত সার্ভিস কমিশনের কাজ। ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত সুপারিশে এটি থাকার সম্ভাবনা নেই।

প্রশ্ন: নবম পে-স্কেল ২০২৬ কবে থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

উত্তর: পে-কমিশন ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেবে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।

প্রশ্ন: স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত দাবি করা হয়েছে?

উত্তর: শিক্ষক সংগঠনগুলো সর্বনিম্ন ৩০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব করেছে।

প্রশ্ন: প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকদের জন্য কোন গ্রেডের দাবি জানানো হয়েছে?

উত্তর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমান ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০ম বা ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশ্ন: নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত হতে পারে?

উত্তর: পে-কমিশন বর্তমানে ১৬,০০০ থেকে ২১,০০০ টাকার মধ্যে একটি সম্মানজনক সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

প্রশ্ন: এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষকরা কি সরকারি শিক্ষকদের সমান উৎসব ভাতা পাবেন?

উত্তর: শিক্ষক সংগঠনগুলোর জোরালো দাবি হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্তমান ২৫% উৎসব ভাতার পরিবর্তে মূল বেতনের ১০০% উৎসব ভাতা প্রদান করা।

প্রশ্ন: পে-কমিশন যদি সুপারিশ না করে তবে শিক্ষকদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

উত্তর: ইউট্যাবসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, কমিশন সুপারিশ না করলে তারা আসন্ন নির্বাচিত সরকারের কাছে এই স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি পেশ করবেন।

প্রশ্ন: ১:৮ বেতন অনুপাত বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: এর অর্থ হলো সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম) বেতন যদি ১ টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের (১ম) বেতন হবে তার ৮ গুণ বা ৮ টাকা। এটি বেতন বৈষম্য কমানোর একটি পদ্ধতি।

প্রশ্ন: শিক্ষকদের দাবিকৃত বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা কত?

উত্তর: শিক্ষকরা মূল বেতনের ৪০% থেকে ৭০% বাড়ি ভাড়া এবং মাসিক ১,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশ্ন: নবম পে-স্কেলে মহার্ঘ ভাতা কি যুক্ত হবে?

উত্তর: সাধারণত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার আগে ১০-১৫% মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের সাথে সমন্বয় করা হয়।

প্রশ্ন: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারারদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কত?

উত্তর: শিক্ষক সংগঠনগুলো লেকচারার বা এন্ট্রি লেভেলের পদের (৯ম গ্রেড) জন্য ৫৫,০০০ টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রশ্ন: শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে কী দাবি তোলা হয়েছে?

উত্তর: শিক্ষকরা দাবি করেছেন যে, অবসরের পর কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর তহবিলের টাকা যেন সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে প্রার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর সুপারিশ কেন ঝুলে আছে?

উত্তর: পে-কমিশন শুধু বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের বেতন পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। আলাদা কাঠামো বা ক্যাডার পরিবর্তনের জন্য সার্ভিস কমিশন ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন প্রয়োজন।

প্রশ্ন: পে-কমিশন কেন ১৪ ফেব্রুয়ারিকে শেষ সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে?

উত্তর: অন্তর্বর্তী সরকার গত জুলাই মাসে কমিশন গঠন করার সময় ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেষ হচ্ছে।

প্রশ্ন: এই পে-স্কেলে কি বেসরকারি শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান বাড়বে?

উত্তর: যদি শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী ১০০% উৎসব ভাতা এবং বাড়ি ভাড়া কার্যকর হয়, তবে বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এসআর