কবিতা পড়ে কে? পরিবার জিজ্ঞেস করে, বই কি বিক্রি হয়? কেউ শোনে তোমার কবিতা?…
তবু কবিরা লিখে যান। কারণ কবির কাছে কবিতা পেশা নয়, বেঁচে থাকার উপায় আর সময়কে মনে রাখার। সবে শুরু হওয়ায় এখনও তেমন জমেনি অমর একুশে বইমেলা। তাই স্টলের সামনে পাঠক-লেখকের ভিড়ের অপেক্ষায় কবিরা।
অনেক কবিই বলছেন, সময় বদলেছে, পাঠের অভ্যাসও বদলেছে। আগের মতো দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে কাব্যগ্রন্থ কেনার দৃশ্য এখন কম দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমের ভিড়ে কবিতা যেন একটু কোণঠাসা। তবু তারা থেমে নেই। ছোট প্রকাশনা, লিটল ম্যাগ, নিজস্ব উদ্যোগে বই, সবমিলিয়ে কবিরা এখনও লিখে যাচ্ছেন সময়ের ভাষা।
প্রকাশক ও কবিদের অভিমত, কবিতার পাঠক কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার। দ্বিতীয়ত, কবিতাকে অনেকেই কঠিন বা বোঝা কঠিন বলে মনে করেন।
কবি তারিক সজিব বলেন, ‘জ্ঞানী-গুণী যারা আছেন, তাদের অন্তত এই জিনিসটা খেয়াল রাখতে হবে যে, আমরা যদি বই পড়ার অভ্যাস না করি, তাহলে আমাদের ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন:
অনেক কবি ও প্রকাশক বলছেন, তরুণদের কাছে পৌঁছাতে হলে ভাষাকে হতে হবে সহজ, প্রাসঙ্গিক এবং সময়সচেতন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি লাইভ আবৃত্তি, ওপেন মাইক সেশন আয়োজন রাখতে পারে ভূমিকা।
কবি শৈবাল নূর বলেন, ‘কবি জিবনানন্দ দাশকেই দেখা যায়, তিনি সমসাময়ীক যে জনপ্রিয় ছিলেন, তার মৃত্যুর পরে তিনি অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন সব পাঠকের কাছে। তুরুণদের নিয়ে কাজ করতে ওদেরই আসলে কাজ কতে হবে, অবশ্যই আমাদেরের নিয়ে।’
বাংলার ইতিহাসে কবিতা কেবল সাহিত্য নয়, এটি আন্দোলনের ভাষা, প্রেমের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম সব জায়গায় কবিতাই ছিল উচ্চারণের শক্তি। তাই কবিতা এই জাতির শিরায় শিরায় মিশে আছে বলছেন কবিরা।
তাই পাঠক কমলেও, বাজার ছোট হলেও, কবিরা বিশ্বাস করেন যতদিন ভাষা থাকবে, ততদিন কবিতাও বেঁচে থাকবে মানুষের ভেতরে, নিঃশব্দে, অনির্বাণ হয়ে।





