বইমেলা মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব—নতুন বইয়ের গন্ধ, প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফ আর পাঠকের ভিড়ে মুখর প্রাঙ্গণ। কিন্তু এবারের মেলার চিত্র যেন কিছুটা ভিন্ন।
অনেকটা জেনে শুনে বিষপান করার মতোই সম্ভাব্য ব্যবসায়ীক ক্ষতির আশঙ্কা জেনেও এবারের মেলায় অংশ নিয়েছিলেন প্রকাশকরা। কিন্তু মেলার শেষপ্রান্তে এসে প্রকাশকদের সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলা একাডেমি জানিয়েছে ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় আনুমানিক ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে।
প্রকাশকদের দাবি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে গেলবারের তুলনায় এবার বই বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ।
সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘বড় প্রকাশক তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলেছি, গত বারের থেকে এ বছর রিডিউস হয়েছে ৬০ শতাংশ। ছোট প্রকাশক বা কম বইয়ের প্রকাশকদের আরও কম বিক্রি হয়েছে।’
অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী পরিচালক সিরাজুল কবির কমল বলেন, ‘গেল দিনের বৃষ্টিতে অনেক প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ কখনো প্রকাশকদের স্বার্থ দেখেছে এমন নজির নেই।’
বড় প্রকাশনায় কিছুটা বেচাবিক্রি হলেও মেলায় অংশ নেয়া প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ স্টলে পাঁচ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।
অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, ‘আমার প্রতিদিন মিনিমাম সেল হতো ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। এ বছর আমাদের তেমন সেল হয়নি। অধিকাংশ বই আমাদের জানুয়ারি ডিসেম্বরে তৈরি হয়ে গেছে। সেই বই যদি আনসোল্ড থেকে যায়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি আমাদের জন্য।’
আরও পড়ুন:
পাঠকের সংখ্যা কম হলেও যারা এসেছেন, তারা সময় নিয়ে ঘুরে দেখেছেন স্টল, পছন্দ করেছেন বই, কথা বলেছেন লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে। ফলে ভিড় কম থাকলেও বইপ্রেমীদের জন্য এবারের মেলা ছিলো কিছুটা স্বস্তির।
দর্শনার্থীদের একজন বলেন, ‘সেল্ফি নিয়ে যারা ব্যস্ত থাকে তাদের এ বছর তেমন দেখা যাইনি। ফলে স্বস্তির মধ্যেই বই মেলা ঘুরে দেখতে পেরেছি। তবে উৎসবমুখর পরিবেশে আবার মেলা ফিরে পাবার প্রত্যাশা রয়েছে।’
এবারের বইমেলায় অংশ নেয় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিলো ৪৬৮টি স্টল। মেলার তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ই মার্চ পর্যন্ত জমা পড়েছে দুই হাজার ৭টি নতুন বই।





