ফুরিয়ে আসছে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত, কতদিন চলবে?

জ্বালানি তেল
দেশে এখন
0

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির (War situation) নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় এবং বিদেশি শোধনাগারগুলো সময়মতো তেল দিতে না পারায় দেশের জ্বালানি তেলের মজুত (Fuel stock) আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত এখন মাত্র কয়েক দিনের।

একনজরে দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি ২০২৬

জ্বালানির ধরন (Fuel Type) বর্তমান মজুত (Current Stock) কতদিন চলবে (Remaining Days)
অকটেন (Octane) ৯,৮২৯ টন ০৮ দিন
পেট্রোল (Petrol) ১৬,২২৫ টন ১১ দিন
ডিজেল (Diesel) ১,৫২,৫৩৯ টন ১২ দিন
ফার্নেস অয়েল (Furnace Oil) ৪৪,৪১৪ টন ১৮ দিন
জেট ফুয়েল (Jet Fuel) ৩৬,৬৬১ টন ২৪ দিন

আরও পড়ুন:

বর্তমান মজুত ও চাহিদার চিত্র (Current Stock & Demand Situation)

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (BPC) তথ্যমতে, দেশে সাধারণত ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অকটেন (Octane): দেশে অকটেনের দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ১৯৩ টন। বর্তমানে মজুত আছে মাত্র ৯ হাজার ৮২৯ টন, যা দিয়ে আর মাত্র ৮ দিন চলা সম্ভব।

পেট্রোল (Petrol): দৈনিক ১ হাজার ৪৯৬ টন চাহিদার বিপরীতে মজুত আছে ১৬ হাজার ২২৫ টন। এই মজুতে চলবে আর মাত্র ১১ দিন।

ডিজেল (Diesel): সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই জ্বালানির মজুত আছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন। দৈনিক ১২ হাজার ৭৭৭ টন চাহিদা অনুযায়ী এই মজুতে বড়জোর ১২ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল: বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলে ২৪ দিন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফার্নেস অয়েলে (Furnace oil) আগামী ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:

সংকটের নেপথ্যে কারণ (Root Causes of the Crisis)

১. আন্তর্জাতিক সংঘাত: বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল ভারত ও চীন থেকে আমদানি করে। এই দেশগুলো ইরান থেকে স্বল্পমূল্যে তেল এনে পরিশোধন করে বাংলাদেশে পাঠায়। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

২. গ্যাস ও কনডেনসেট সংকট: দেশে পেট্রোলের প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং অকটেনের একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ গ্যাসফিল্ড থেকে পাওয়া 'কনডেনসেট' (Condensate) পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। কিন্তু গত এক বছরে গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ায় কনডেনসেট সংগ্রহেও টান পড়েছে।

৩. বাজার কারসাজি: আন্তর্জাতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে দেশীয় বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজিও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আরও পড়ুন:

এসআর