নগর জুড়ে ফুটপাত ও সড়কে সারি সারি ছাতা আর ক্ষুদ্রবিপনী বিতানের চৌকির সাজসজ্জা। যেখানে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লালসায় চাপা পড়েছে মানুষের হাটার অধিকার।
পথচারীরা জানান, ফুটপাতে দোকানের জন্য হাঁটাচলায় সমস্যা হয়। সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি না দিলে জনগণের ভোগান্তি শেষ হবে না।
বিভিন্ন গবেষণা, জরিপ ও বুয়েটের তথ্য বলছে, রাজধানীর প্রায় ৮০ শতাংশ ফুটপাতই দখলে। এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে ব্যবসার কাজে । এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী বা অবৈধ পার্কিংয়ের দখলেও আছে বেশ কিছু ফুটপাত ও সড়ক। এতে শহরের ৩৮ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। আর সড়কের ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনাই যার প্রধান উৎস। এখন প্রশ্ন হলো ভয়াবহ এসব সংকটেও কাদের নেতৃত্বে দখল হচ্ছে ফুটপাত?
অনুসন্ধান বলছে, এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার সিন্ডিকেটের দখলে । আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এসব ফুটপাত থেকে দৈনিক চাঁদা উঠলেও এখন উঠছে মাসিক কিস্তিতে। প্রতি মাসে যার পরিমাণ শতকোটিরও বেশি।
দোকানদাররা জানান, কেউ মাসিক চাঁদা তুলে আর কেউ প্রতিদিন।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটপাত দখলের পেছনে সব থেকে বড় শক্তি এই রাজনীতি। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও আছেন এর সঙ্গে। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প নয়, সংস্কারেই মনোযোগী হতে হবে সরকারকে। ফুটপাতের প্রকৃত হকারদের তালিকা করে পুনর্বাসন কিংবা সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যেতে পারে৷ আর দখলদারদের আনতে হবে আইনের আওতায়।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এটা কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা না। এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করতে হবে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে।’
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ফুটপাতের হকার এবং কারা কখন বসেছেন এটাকে যদি আমরা পরিকল্পনার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে হকারের সংখ্যাটা বাড়তেই থাকবে। ঢাকা তো সারা বাংলাদেশের হকারকে নিতে পারবে না।’
যদিও এখনি উচ্ছেদ নয় হকারদের ভিন্ন কর্মস্থলের বিষয়ে ভাবছে দায়িত্বরা। ঈদের পরেই ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস নগর প্রশাসকের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা সমস্ত অঙ্গনেই ট্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাবো যাতে সবকিছু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হতে পারে।’
প্রতিবার নির্বাচনি ইশতেহারের নগর দখলমুক্ত করার আশ্বাস দিলেও কথা রাখতে দেখা যায়নি বিগত কোন সরকারকেই। তবে নতুন সরকারের হাত ধরে সড়ক কতটা নিরাপদ হবে, এই অরাজকতা থেকে মুক্তি মিলবে কী না? অপেক্ষা আপাতত করতেই হচ্ছে।





