বাংলাদেশে ৮৬ শতাংশ পরিবারে নারী ও মেয়েরাই পানি সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে, যেখানে অনেকেই প্রতিদিন ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার, শিল্প দূষণ, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বন্যা ও খরার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এর ফলে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক চাপে পড়তে হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আজ (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ডিপিএইচইর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আওয়াল।
সেমিনারে পানি ও জেন্ডার বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন।
তিনি নারীদের নিরাপদ পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ততার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘পানি সংকট কেবল পরিবেশগত নয়, এটি একটি লিঙ্গ সমতার সংকট। নারীদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।’
এনজিও ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এস. এম. এ. রশিদ তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘এ খাতে বৈষম্য কমানো অত্যন্ত জরুরি। পানি ব্যবস্থাপনায় নারী ও কন্যাদের কেন্দ্রে আনতে হবে, যাতে তাদের মতামত, নেতৃত্ব ও অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়।’
প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পানিই জীবন— কিন্তু পানির সংকট এখন বিশ্বব্যাপী। দুঃখজনকভাবে নিরাপদ পানির উৎস দিন দিন কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকায় এই সংকট আরও তীব্র।’
তিনি ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার নরগিস আক্তার, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রো, ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ পিটার ম্যাস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেশীয় প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।
নায়োকা মার্টিনেজ পানি খাতে সমাধান ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি রাজস্বভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন, যেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি করার প্রতি জোর দেন।
পিটার মেস পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। ড. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ স্বাস্থ্য খাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। তিনি উপস্থিত সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান।




