‘বিদেশ যেতে দালালচক্র ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ বাড়াতে হবে’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
দেশে এখন
0

বিদেশগামী মানুষের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ পাঠাচ্ছে, এতে অনেকেই বিপদে পড়ছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জেলা প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে হবে।

আজ (মঙ্গলবার, ৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এই ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যেগুলো দেশের তৃণমূল জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ক্রীড়াসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যুর প্রভাব দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পড়ছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কোন অঞ্চলে কী পরিস্থিতি, তা তুলে ধরতেও ডিসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

আরও পড়ুন

অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশে গিয়ে নানা বিপদের মুখে পড়ছেন। এটি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে চায়। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসনও কমবে। এ লক্ষ্যে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।’ যেখানে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই, সেখানে নতুন করে স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা যেন যেকোনো সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা উন্মুক্ত রয়েছে।’ নীতিনির্ধারণ বা বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই তাদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেআর