সংসদে নতুন এমপিদের ভুল তথ্য ও আপত্তিকর বক্তব্য, রীতিনীতি মানার আহ্বান স্পিকারের

জাতীয় সংসদ অধিবেশন
দেশে এখন
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস প্রতিনিয়ত ভুল তথ্য দিচ্ছেন সাংসদরা। বক্তব্যে ব্যবহার করছেন মানহানিকর শব্দ। এমনকি বিদ্রূপ করতেও দেখা যাচ্ছে অনেককে। ফলে এসব নিয়ে সংসদের ভেতরে বাইরে বাড়ছে আলোচনা- সমালোচনা। সংসদীয় রীতি নীতি মেনে সংসদে বক্তব্য দিতে বারবার আহবান জানাচ্ছেন স্পীকার। আর সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বেশিরভাগ সংসদ সদস্যই নতুন হওয়ায় সংসদীয় আচরণের ঘাটতি রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শরিফ ভুঁইয়ার মতে, সংসদে কথা বলার ক্ষমতা অবারিত হলেও আইনসভার সদস্যদের নিজেদের আইন মেনে চলতে হবে।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম আইনসভা বা জাতীয় সংসদ। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আইনসভাতেই নির্ধারিত হয়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের দাবি দাওয়া, রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক, বাজেট ঘোষণাসহ সবই করে থাকেন সংসদে।

সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের সব ধরণের রক্ষাকবচ নিশ্চিত করেছে। আর সংসদীয় রীতিনীতি ও আচরণ পরিচালিত হয় কার্যপ্রণালী বিধি দ্বারা। এটাকে সংসদ সদস্যদের অবশ্য পালনীয়। তবে এই রীতিনীতির বাইরে হরহামেশাই সংসদ সদস্যদের মানহানিকর, ভুল তথ্য ও বিদ্রূপ করতে দেখা যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য নিজের বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করেন। পরে দেখা যায় তার বাবা এখনো বেঁচে আছেন। ওই সংসদ সদস্য নিজেই পরে এই ভুল বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।

একই অধিবেশনে আরেকজন সংসদ সদস্য চালুন ও সুইয়ের গল্প বলতে গিয়ে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করেন। স্পিকার তাৎক্ষণিক এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। একজন নারী সংসদ সদস্য ইংরেজি বাংলা মিশিয়ে বক্তব্য দিয়ে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি করেন। অপ্রাসঙ্গিক হওয়ায় হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে দেয়া বক্তব্যও বাতিল করেছেন স্পিকার।

সংসদ সদস্যদের নানা বক্তব্য নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সংসদের হুইপ রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মনে করেন, সংসদ সদস্যদের উচিত কার্যপ্রণালী বিধি ও সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলা। তবে, এবারের সংসদের প্রায় ৮০ শতাংশ সংসদ নতুন হওয়ায় তাদের তৈরি হতে সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুজ তালুকদার দুলু বলেন, ‘এই সংসদে প্রায় ২৬০ জন প্রথম এমপি। এটা রেকর্ড। হ্যাঁ, এই যে দীর্ঘ আপনার ১৮-১৯ টা বছর বাংলাদেশে তো কোন নির্বাচনই হয়নি। যেহেতু নতুন, কোন কথায় কখন বলতে হয় এটা হয়তো টাইম লাগবে। মাত্র দুই অধিবেশন চলছে। তিন মাস আমাদের বয়স। তো এইটা টাইম লাগবে। তো আলটিমেটলি আস্তে আস্তে আমি বিশ্বাস করি যে, ছোটখাটো ত্রুটি বা ভুল যেগুলো হচ্ছে এগুলা ঠিক হয়ে যাবে।’

সংসদে ভুল তথ্য, বিদ্রূপ বা ঠাট্টা করা, কারো মর্যাদা হানিকর বক্তব্যের বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার শরিফ ভুঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্যদের কথা বলার ক্ষমতা অবারিত। তবে, আইন প্রণেতাদের নিজেদেরই আইন মেনে চলতে হবে। আইনসভাকে বাইরে থেকে কারো পরামর্শ দেয়ার সুযোগ নেই।

সুপ্রিমকোর্টের সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শরিফ ভুঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা আপনার মানহানিকর বা আক্রমণাত্মক বা অশ্লীল বা যেটা অসংসদীয় সে ধরনের কোনো কথা বলতে পারবেন না। এই সংসদ সদস্যরা মিথ্যা তথ্য বা ভুল তথ্য জেনে বুঝে দিতে থাকেন সংসদে, তাহলে তো উনি ওনার নিজের প্রতি ন্যায়বিচার করলেন না, যে জনগণ ওনাকে ভোট দিয়েছে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করলেন না, সংসদ সদস্যের পদের প্রতিও ন্যায়বিচার করলেন না। কেউ যদি ক্রমাগতভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ধরনের জিনিস করেন, সেটা স্পিকারের একটা দায়িত্ব আছে ওনাকে সাবধান করা, এক্সপাঞ্জ করা।’

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আচরণ গুরুতর বিশৃঙ্খল হলে তাকে স্পিকার অধিবেশন থেকে বের করে দিতে পারেন। সভাপতিকে না মানলে সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

ইএ