শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামের আয়োজন

শোকেসিং প্রোগ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী
দেশে এখন
0

শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করতে দেশব্যাপী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘স্টার্টআপ, সাইন্স প্রোজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় এ আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য। এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

আজ (রোববার, ২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামীকাল (সোমবার, ২৯ জুন) ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ জাতীয় পর্যায়ের শোকেসিং প্রোগ্রাম আয়োজিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে জেলার ও মহানগর পর্যায়ের সেরা ১০০ দল এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রজেক্ট উপস্থাপন করবে।

সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের কথা রয়েছে।

সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, প্রতি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানায় সফলভাবে এই শোকেজিং প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়। উপজেলা পর্যায়ে ৮ হাজার ২৯টি দলে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার বাছাইকৃত ৫৪৬টি দল গত ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের স্টার্ট আপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শন করে। সেদিন বি এ এফ শাহীন কলেজে মিলনায়তনে ঢাকা জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান ক্ষুদে উদ্ভাবকদের অনুপ্রেরণা দেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

জানা যায়, এ প্রদর্শনকৃত দলের মধ্য থেকে সেরা ১০ দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। প্রোগ্রামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:

‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত শিক্ষকরা পুরস্কার হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও একটি সনদপত্র পাবেন। এছাড়া ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা পুরস্কার হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও একটি সনদপত্র পাবে।

এছাড়া এই ভেন্যুতে কাল প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক প্রমুখ উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানটি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণমূলক হবে বিধায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীগণের সরাসরি অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষাঙ্গণগুলোতেও শুরু হয়েছে নতুন ধরনের এক সবুজায়ন কর্মসূচি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫ হাজার টাকা করে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান দেয়া হচ্ছে। এ বছর বর্ণিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ বৃক্ষ, ১টি বনজ বৃক্ষ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি যাচাই করতে আজ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন।

এসএইচ