বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার উদ্যোগ; সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত ভুক্তভোগীদের

কিছু সেনাসদস্য শহরের রাস্তায় ট্যাঙ্কারে বসে
দেশে এখন
0

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীতে যেসব কর্মকর্তা চাকরিতে বঞ্চনা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের আবেদন পর্যালোচনার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তারা। সামরিক বাহিনীর বিচার করার আইন পরিবর্তন করারও আহ্বান তাদের।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিডিয়ার বিদ্রোহের মধ্যে দিয়ে। সে সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরে কয়েকজন কর্মকর্তা। ফলাফল বাধ্যতামূলক অবসর।

এর পর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শুরু হয় সামরিক বাহিনীকে দলীয় করণের কাজ। মতের বাইরে গেলেই আয়না ঘর, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতির মতো ঘটনা হয়ে ওঠে নিত্যদিনের।

একে একে নাম যুক্ত হতে থাকে মতের বিরোধী কর্মকর্তাদের। আওয়ামী সরকারের ১৫ বছরের শাসন আমলে বাধ্যতামূলক অবসর ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ৩ বাহিনীতে দাড়ায় ১৫০ জনে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী: ১১৫ জন, নৌবাহিনী: ২১ জন, বিমানবাহিনী: ১৪ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় আওয়ামী সরকার।

৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ত্যাগ করে শেখ হাসিনা। ক্ষমতার মসনদ হারায় আওয়ামী লীগ। এরপরই উঠে আসে আয়নাঘর ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্যায়ের নানা চিত্র। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির দেয়া রিপোর্ট অনুসারে ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন। জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যেসব কর্মকর্তা চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া।

আরও পড়ুন:

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন বা বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও দেয়া হবে।

সরকারি গেজেট প্রকাশকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা। পদবঞ্চিত সামরিক কর্মকর্তাদের সরকারি মূল্যায়নে স্বাগতম। ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, শুধু সামরিক কর্মকর্তা নয়, তিন বাহিনীতে অন্য যারা অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত হয়েছে তাদের অপরাধ ছিলো কি না ক্ষতিয়ে দেখার আহ্বান তাদের।

সাবেক সেনা কমকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেসামরিক অফিসারদের মতো না। আমরা দুই থেকে আড়াই বছর একই পরিবেশে থাকি। বিডিয়ার ম্যাসাকারে আমরা দেখেছি আমাদের ভাইরা মারা যাচ্ছে, কিছু করিনি। এ সেনাবাহিনী আমরা চাই না।’

পরে মে. জেনারেল হিসেবে অবসরে যাওয়া আব্দুল্লাহিল আমান আযমী জানান, সামরিক বাহিনীর বিচার করার আইন পরিবর্তন করতে হবে। এতে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া সামরিক কর্মকর্তারা আদালতে আপিল করতে পারবে। এছাড়া সংবিধান বাতিল করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্য ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার পক্ষে তিনি।

তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর কারও ওপর যদি অবিচার করা হয় আদালতের আশ্রয় নিতে পারবে। সরকারের তো তিনটি বিভাগ থাকার কথা। বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের তা থাকে না। এটি দুঃখজনক। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে দিতে হবে। আমি মনে করি আমাদের যে এ ফর্ম অব গভমেন্ট আছে এটি সরকারকে স্বৈরাচার বানাতে সাহায্যে করে। প্রেসিডেন্টের কোনো ক্ষমতা নেই।’

রাজনৈতিক দল গুলোকে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে পেশাদারিত্ব দেখানোর আহবান অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তার।

এফএস