আবাসন খাতে স্থবিরতা: নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে নতুন করের ধাক্কা

দেশের আবাসন খাত
দেশে এখন
0

ঊর্ধ্বমুখী নির্মাণ ব্যয় আর নানা সংকটে টালমাটাল দেশের আবাসন খাত। রড, সিমেন্ট আর ইট পাথরের দাম বাড়ার প্রতিযোগিতার মধ্যে নতুন করে গেইন ট্যাক্স আরোপকে দেখা হচ্ছে বাড়তি চাপ হিসেবে। আর এতে স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এ খাতের স্থবিরতা নিয়ে বিভিন্ন মত বিশেষজ্ঞদের।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আবাসন খাত। কিন্তু নীতিমালার জটিলতা আর নির্মাণ সামগ্রীর আকাশচুম্বী দামে গত কয়েক বছর ধরেই এ খাতে ধীর গতি বিরাজ করছে। জাতীয় নির্বাচন আর নতুন বাজেটের পর স্থবির হয়ে পড়া এই খাতে কিছুটা নড়াচড়া হয়েছে ঠিকই, তবে সেটা যে ইতিবাচক নয় তা স্পষ্ট খাত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে।

ইনটেক প্রেপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন করে ট্যাক্স আরোপ করছে। এ নিয়ে আমরা ও আমাদের যে ল্যান্ড ওনাররা রয়েছেন তাদের সঙ্গে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের যে প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, সিরামিকস এগুলোর মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।’

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে রডের দাম টন প্রতি ঠেকেছে লাখ টাকার কাছাকাছি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সিমেন্ট আর ইটের দামও। শুধু রড-সিমেন্টই নয়, টাইলস, কাঁচ কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের দামও বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ফলে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো তাদের প্রজেক্টকে ছোট করে আনছেন প্রতিনিয়তই। যার সত্যতা মিলছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপেও।

বিবিএসের বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে কমে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ০২ শতাংশে। অর্থাৎ রড, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে খরচ বেড়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিতে। বিএমপিআইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব বলছে, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এতে বিনিয়োগ করা টাকা তুলে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘এ সেক্টরে ৪০ লাখ মানুষ কর্মরত আছেন। তারা বেকার হলে রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হবে। এ সেক্টর থেকে সরকার সরাসরি ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স পায়। সেটা কিন্তু সরকার বঞ্চিত হবে। সাপোর্টি ইন্ডাস্ট্রিসহ পুরো খাত জিডিপিতে ১৬ শতাংশ কন্ট্রিবিউট করে। সেটা কিন্তু জিডিপিতে আসবে না।’

রিহ্যাবের এ শীর্ষ নেতা বলছেন, এ খাত যদি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে তবে তা শুধুমাত্র আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রভাব পড়বে এর সাথে যুক্ত প্রায় আড়াই'শ উপখাতেও।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মৌলিক চাহিদার এ খাতে করের বোঝা না চাপিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার কথা বলছেন, অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘আমরা যদি সামগ্রিকভাবে একটা নীতিমালার মাধ্যমে এটা পরিচালনা করি যাতে ঢালাওভাবে ট্যাক্স বসানোর ফলে যে সমস্যা হচ্ছে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।’

সাধারণ ক্রেতাদের আশা, দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের আসবে নির্মাণ সামগ্রীর বাজার, আর থমকে যাওয়া স্বপ্নগুলো আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে ইটের ওপর ইটের গাঁথুনিতে।

এএইচ