দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি আর পাহাড়ের মিতালিতে একাকার—পর্যটন নগরী কক্সবাজার। নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশের মতো উত্তাপ বইছে এই উপকূলেও। তবে এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। কক্সবাজারের নির্বাচনি মাঠের বড় একটি অংশ জুড়ে আছেন নারী ভোটাররা।
পর্যটনের ঝকঝকে আলো থেকে একটু দূরে এই শুঁটকি পল্লী। এখানকার শত শত নারীর ঘাম ঝরানো শ্রমে সমৃদ্ধ হচ্ছে অর্থনীতি। কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ভাবনা কী?
এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘আমরা এমন এক মানুষকে এবার চাই, যে এলে আমাদের উপকার হবে।’
অন্যদিকে, কক্সবাজারে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা। হস্তশিল্প থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসা, পোল্ট্রি খাতেও এখন নারী পদচারণা চোখে পড়ার মতো। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের অধিকার আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান তারা।
আরও পড়ুন:
নারী উদ্যোক্তা নয়ন সেলিনা বলেন, ‘যখনই আমরা একটু ঋণের জন্য যাই তখনই আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি, একটি কাজের জন্য বার বার যেতে হয় আমাদের। এসব বিষয়ে যারা সুনজর রাখবে তেমন একটি সরকার আমরা চাই।’
পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে নতুন প্রজন্মের মনেও। যারা এবারই প্রথমবার ভোট দিবেন, সেই তরুণ-তরুণীরা অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু আশ্বাস নয়, চান দৃশ্যমান পরিবর্তন।
কলেজ পড়ুয়া তরুণী ভোটার বলেন, ‘আমরা এমন প্রতিনিধি চাই, যে আমাদের দেশকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন করবে।’
কক্সবাজারের এই বিশাল নারী সমাজ এখন আর কেবল দর্শক নয়, বরং তারা হতে চান আগামীর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। সে কথাই জানালেন কক্সবাজার পৌরসভার নারী উন্নয়নকর্মী।
কক্সবাজার পৌরসভার সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার শামীমা আকতার বলেন, ‘ভোট অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নারীরা অনেকটা ভয়ভীতির মধ্যে থাকেন। কোথাও কোনো গণ্ডগোল হবে কি না বা কোনো ঝামেলায় পরে যাবে কি না এমনটাই ভয় কাজ করে তাদের মধ্যে। আরও একটা বিষয় হচ্ছে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কাকে ভোট দেবে।’
জেলায় মোট ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৬৩ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৪১ জন।





