ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি, এক অপরাধে তিন শাস্তি হয়েছে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রুমিন ফারহানা
এখন জনপদে
রাজনীতি
0

রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিচারিক কমিটিকে চিঠি প্রদান এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ দেয়ার পর এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ (সোমবার, ১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে এ অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

গত শনিবারের (১৭ জানুয়ারি) ঘটনা বর্ণনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি মাইক ব্যবহার করি না, হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি। স্টেজ বলতে আমার জন্য একটা চেয়ার আর দুইপাশে দুইটা চেয়ার ছিল। আর সামনে সব প্লাস্টিকের চেয়ারে মানুষ বসা ছিল। এর মধ্যে যখন ম্যাজিস্ট্রেট আসেন, তিনি এসে পুলিশ নিয়ে প্রথমে উঠানের ভেতরে ঢুকেন। একপর্যায়ে স্টেজের ওপরে উঠে আসেন। আমি বক্তব্য সংক্ষেপ করে নেমে যাই এবং আমি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করি, আমার কোন আচরণবিধিটা লঙ্ঘন হয়েছে? উনি (ম্যাজিস্ট্রেট) আমাকে বলতে পারছিলেন না। একটা পর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বলি সবাই প্রচারণা করছে, আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই যে বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বললাম- এ কথাটা কোথায় থেকে আসলো? কথাটা তো হঠাৎ আসেনি। “রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রুমিন ফারহানার দেয়া অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান” -এটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজে (আঞ্চলিক সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেইজ) বড় করে গেছে। এটা আমি উনাকে দেখিয়েছি যে, অন্য প্রার্থীর কর্মীরা এভাবে আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আপনারা কিছু করতে পারেন না। এটাই আমি বলেছি। আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি।’

আরও পড়ুন:

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৭ তারিখে আমাকে এ ঘটনার পরে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর আগেও আমাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ৪০ হাজার টাকা ওইদিন জরিমানা করে তো আমার অপরাধের শাস্তি হলো। তারপরে দ্বিতীয় শাস্তি হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি পাঠালেন নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে। এখানেই থামেনি। তিন নম্বর শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবার আমাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমি এখনও সেই নোটিশ পাইনি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এক অপরাধের জন্য আমাকে তিন জায়গায় শাস্তি দেয়া হলো।’

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির জোটের প্রার্থী স্টেজ করে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছে। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আজকে সকালে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। আমি বলেছি বিএনপি জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব কীভাবে জনসভা করছে আপনারা জানেন না? বিনীতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম আমি তো এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি, বিএনপি জোটের প্রার্থী কত টাকা জরিমানা দিয়েছেন? আমি দেড় ঘণ্টা উনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) সামনে বসে থেকেও অঙ্কটা জানতে পারলাম না, ওনারা জানেন না বিএনপির জোটের প্রার্থী জরিমানা দিয়েছেন কি না।’

এসময় প্রশাসন ২০১৮ সালের মতো কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

এসএস