আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

রমজান পূর্ব প্রস্তুতি
ধর্ম ও বিশ্বাস
0

রমজানুল মুবারক (Ramadanul Mubarak) মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার এক মহান নিয়ামত। এটি রহমত (Mercy), মাগফিরাত (Forgiveness) ও নাজাতের (Salvation) মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা রোজাকে ফরজ (Obligatory Fasting) করেছেন এবং মানবজাতির হিদায়েতের জন্য পবিত্র কোরআন (Holy Quran) নাজিল করেছেন। রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি (Self-purification), তাকওয়া (Taqwa/God-consciousness) অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগেই যথাযথ প্রস্তুতি (Pre-Ramadan Preparation) গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একনজরে: রমজানের বিশেষ প্রস্তুতি ও আমল
প্রস্তুতির ক্ষেত্র করণীয় ও লক্ষ্য
আত্মিক (Spiritual) তওবা করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত।
মানসিক (Mental) ধৈর্য ধারণ, রাগ বর্জন ও গিবত পরিহার করা।
শারীরিক (Physical) পরিমিত আহার, পর্যাপ্ত ঘুম ও সুস্থ জীবনযাপন।
সামাজিক (Social) অসহায়দের সাহায্য করা ও অপচয় রোধ করা।

আরও পড়ুন:

আত্মিক ও ঈমানি প্রস্তুতি (Spiritual Preparation)

রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন খাঁটি তওবা (Repentance), গুনাহ বর্জনের দৃঢ় সংকল্প এবং ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (Five daily prayers), কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা রমজানের প্রস্তুতির অপরিহার্য অংশ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাযিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাযিনা মিন কাবলিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন।

অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সুরা বাকারা: ১৮৩)

মানসিক ও চরিত্রগত প্রস্তুতি (Mental & Character Preparation)

রমজান মানুষকে ধৈর্য (Patience), সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। তাই রমজানের আগে থেকেই মিথ্যা, গিবত (Backbiting), পরনিন্দা, রাগ ও অহংকার পরিহারের অভ্যাস করা প্রয়োজন। সুন্দর চরিত্র গঠন ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করাও রমজানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আরও পড়ুন:

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ

উচ্চারণ: মান লাম ইয়াদা’ কাওলায ঝুরি ওয়াল আমালা বিহি ফালয়িসা লিল্লাহি হাজাতুন ফি আইঁ ইয়াদা’ তয়ামাহু ওয়া শারাবাহু।

অর্থ: যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)

শারীরিক ও সামাজিক প্রস্তুতি (Physical & Social Preparation)

রোজা পালনের জন্য শারীরিক সুস্থতা (Physical Fitness) গুরুত্বপূর্ণ। অতিভোজন ত্যাগ করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন রমজানের প্রস্তুতির অংশ। এছাড়া পরিবারে ইবাদতমুখী পরিবেশ তৈরি করা, সাহরি ও ইফতারে অপচয় (Wastage) পরিহার করা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো রমজানের প্রকৃত শিক্ষা।

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

উচ্চারণ: মান স-মা রমাদ্ব-না ইমানাঁও ওয়াহতিসাবান গুফিরা লাহু মা তাক্বাদ্দামা মিন যামবিহ।

অর্থ: যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ২০১৪; সহিহ মুসলিম: ৭৬০)

আরও পড়ুন:



এসআর