রমজানের এই আধ্যাত্মিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে শাবান মাসের শেষ দিনগুলোতে (Last days of Shaban) আমাদের করণীয় সম্পর্কে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন:
১. দোয়া ও শুকরিয়া (Dua & Gratitude)
রমজান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারা আল্লাহর মহান নেয়ামত। রাসুল (সা.) রজব থেকেই দোয়া করতেন— ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান’ (মুসনাদে আহমদ: ২৫৯১)। এই অবশিষ্ট দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করুন।
২. মানসিক প্রস্তুতি (Mental Preparation)
রমজানের আগমনে আনন্দিত হওয়া ইমানের লক্ষণ। জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখার এই মাসে নিজেকে জান্নাতি হিসেবে গড়ার মানসিক প্রস্তুতি (Preparation for Ramadan) নিন আজই।
৩. তওবা ও সংকল্প (Repentance & Resolution)
রমজান হলো জীবনের নতুন পাতা খোলার সময়। শাবানেই বিগত গুনাহের জন্য খাঁটি তওবা (Sincere Repentance) করুন। এখনই সংকল্প করুন যে, এই রমজান হবে আপনার জীবনের সেরা রমজান।
৪. সঠিক পরিকল্পনা (Ramadan Planning)
দুনিয়ার কাজের মতো আখেরাতের জন্য একটি নিখুঁত রুটিন (Daily Routine) তৈরি করুন। কখন কোরআন তিলাওয়াত করবেন, কখন জিকির করবেন—তা আজই লিখে ফেলুন।
আরও পড়ুন:
৫. দোয়া ও জিকিরের বিশেষ তালিকা (Dua & Dhikr List)
রমজানে কবুলিয়াতের মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে নিজের প্রয়োজনীয় দোয়ার একটি তালিকা (List of Supplications) তৈরি করুন। এতে ইবাদতে একাগ্রতা বাড়বে।
৬. শক্তিতে শুরু (Strong Start)
রমজানের প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ উদ্যমে ইবাদত শুরু করতে হবে। তবে নিজের শক্তির ওপর ভরসা না করে আল্লাহর কাছে তওফিক (Success) চাইতে হবে।
৭. পূর্বসূরিদের আদর্শ অনুসরণ (Following Predecessors)
ইমাম সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বা ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতো পূর্বসূরিরা রমজানে যেভাবে কোরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হতেন, তা থেকে অনুপ্রেরণা নিন।
৮. বদভ্যাস ত্যাগ (Quitting Bad Habits)
রাত জাগা, অতিরিক্ত ঘুমানো, অতিভোজন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) সময় নষ্ট করার মতো বদভ্যাসগুলো শাবানেই কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন:
৯. দাওয়াত ও সমাজসেবা (Social Service)
মানুষের মন এ সময় নরম থাকে। পাড়া-প্রতিবেশী বা দরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রী উপহার দিয়ে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করুন।
১০. দ্বিগুণ সওয়াবের সংকল্প (Double Reward)
অন্যকে ইফতার করানোর (Feeding fasting people) মাধ্যমে নিজের সওয়াব দ্বিগুণ করার সুযোগ নিন। রাসুল (সা.) বলেছেন, রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি)।
১১. আখলাক ও আচরণের উন্নয়ন (Character Building)
রোজা চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ। রাগ নিয়ন্ত্রণ, গিবত (Backbiting) বা পরনিন্দা ত্যাগের মাধ্যমে রোজাকে সার্থক করতে শাবানের শেষ দিনগুলো থেকে প্র্যাকটিস শুরু করুন।
১২. পরোপকার ও খেদমত (Kindness & Charity)
বিপদগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করলে আল্লাহ কেয়ামতের দিন আপনার কষ্ট লাঘব করবেন। গৃহকর্মী বা অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেওয়া একটি মহান গুণ।
আরও পড়ুন:
রমজান প্রস্তুতি ২০২৬: শাবানের অবশিষ্ট দিনগুলো কীভাবে কাটাবেন?





