*পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সংকলিত।ঈদের দিনের বর্জনীয় আমল (Forbidden Acts on Eid Day)
বিষয় (Subject) বিবরণ ও শরিয়তের বিধান (Description & Ruling) রোজা রাখা ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন। (মুসলিম: ১১৩৮) বিজাতীয় অনুকরণ পোশাক বা আচারে অমুসলিমদের অনুকরণ করা যাবে না। (আবু দাউদ: ৪০৩৩) বেপর্দা চলাফেরা জাহেলি যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন বা খোলামেলা পোশাক পরা নিষিদ্ধ। (সুরা আহযাব: ৩৩) অপচয় ও অপব্যয় কেনাকাটা বা উৎসবে অতিরিক্ত খরচ করা শয়তানের কাজ। (সুরা বনি ইসরাইল: ২৬-২৭) হারাম বিনোদন মদ, জুয়া, ডিজে পার্টি বা আতশবাজি করা শরিয়তবিরোধী নাপাক কাজ। (সুরা মায়িদা: ৯০)
১. ঈদের দিন রোজা রাখা (Fasting on Eid Day)
রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদের দিনটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন। তাই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখা হারাম (Fasting is Haram on Eid)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এই দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম)।
আরবি: نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى
উচ্চারণ: নাহা আন সিয়ামি ইয়াওমাইন: ইয়াওমিল ফিতরি ওয়া ইয়াওমিল আদহা।
অর্থ: "রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন: ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন।" (সহিহ মুসলিম: ১১৩৮)
আরও পড়ুন:
২. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ (Imitating Non-Muslim Culture)
ঈদ উপলক্ষে পোশাক-পরিচ্ছদ বা শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণ (Imitating other cultures) করা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে অন্য জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।" (আবু দাউদ)। তাই উগ্র সাজসজ্জা বা বিজাতীয় কায়দায় ঈদ উদযাপন থেকে বিরত থাকা ঈমানি দায়িত্ব।
আরবি: مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
উচ্চারণ: মান তাশাব্বাহা বি-কাওমিন ফাহুয়া মিনহুম।
অর্থ: "যে অন্য জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩৩)
৩. খোলামেলা ও বেপর্দা পোশাক (Wearing Revealing Clothes)
ঈদের দিন আনন্দের নামে নারীদের খোলামেলা পোশাক পরে জনসম্মুখে বের হওয়া বা বেপর্দাভাবে (Lack of Hijab/Parda) ঘোরাফেরা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নারীদের জাহেলি যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা আহযাব: ৩৩)।
আরবি: وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ
উচ্চারণ: ওয়া কারনা ফী বুয়ূতিকুন্না ওয়া লা তাবাররাজনা তাবাররুজাল জাহিলিয়্যাতিল ঊলা।
অর্থ: "তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মূর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।" (সুরা আহযাব: ৩৩)
আরও পড়ুন:
৪. কেনাকাটা ও উদযাপনে অপচয় (Extravagance and Waste)
ঈদের কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়ায় সামর্থ্যের বাইরে অপব্যয় করা (Waste of money/Extravagance) শয়তানের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।" (সুরা বনি ইসরাইল: ২৭)। তাই পরিমিতিবোধ বজায় রেখে ঈদ উদযাপন করাই ইসলামের শিক্ষা।
আরবি: إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
উচ্চারণ: ইন্নাল মুবাযযিরীনা কানূ ইখওয়ানাস শায়াতীন।
অর্থ: "নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।" (সুরা বনি ইসরাইল: ২৭)
অন্য আয়াতে: وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا (ওয়া কুলূ ওয়াশরাবূ ওয়া লা তুসরিফূ) অর্থাৎ, "তোমরা পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না।" (সুরা আরাফ: ৩১)
৫. মদ, জুয়া ও আতশবাজি (Alcohol, Gambling and Fireworks)
ঈদের রাতে বা দিনে ডিজে পার্টি, মদ পান, জুয়া খেলা বা আতশবাজি (Fireworks and Crackers) করা শরিয়তবিরোধী নাপাক কাজ। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের শয়তানি কর্মকাণ্ড পরিহার করে সফলকাম হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা মায়িদা: ৯০)।
আরবি: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ ... رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ ইন্নামাল খামরু ওয়াল মাইসিরু... রিজসুম মিন আমালিশ শায়তানি ফাজতানিবূহু।
অর্থ: "হে মুমিনরা! নিশ্চয় মদ-জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তিরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর; যাতে সফলকাম হও।" (সুরা মায়িদা: ৯০)
ঈদের দিনটি যেন শুধু বাহ্যিক আমোদ-প্রমোদে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং ইবাদত ও সুন্নতের আলোকে প্রতিটি মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি কলুষমুক্ত ঈদ কাটানো।
আরও পড়ুন:





