রমজানের কাজা রোজা আদায়ের সঠিক নিয়ম: জেনে নিন কাফফারার বিধান

রমজানের কাজা রোজা রাখার নিয়ম
ধর্ম ও বিশ্বাস
0

রমজান মাস মহান আল্লাহর অনন্য নেয়ামতে পরিপূর্ণ। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা পালন করা ফরজ (Mandatory)। তবে অসুস্থতা, সফর বা অন্য কোনো শরয়ি ওজরের কারণে অনেকের রোজা ছুটে যেতে পারে। ইসলামি শরিয়তে এই ছুটে যাওয়া রোজা পরবর্তী সময়ে আদায়ের বিশেষ বিধান রয়েছে, যাকে কাজা (Qaza) বলা হয়। আবার সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া রোজা ভাঙলে কাফফারা (Expiation) আদায়েরও নির্দেশ রয়েছে।

রোজার কাজা কী এবং কেন? (What is Qaza Fasting?)

রমজানে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে রোজা রাখতে না পারলে বা রোজা রাখার পর তা ভেঙে ফেললে তার প্রতিকারস্বরূপ একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখাকেই কাজা বলা হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে, সে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো কারণ বা অসুস্থতা ছাড়া ইচ্ছা করে রমজানের রোজা ভাঙলে তার সমমর্যাদা সারাজীবনের রোজা দিয়েও পূরণ করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

কাজা রোজা আদায়ের সময় ও নিয়ম (Rules and Timing for Qaza Fast)

রমজানের পর যত দ্রুত সম্ভব কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। বিনা কারণে বিলম্ব করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। কাজা রোজাগুলো একত্রে বা বিরতি দিয়ে সুবিধামতো সময়ে আদায় করা যায়। শাওয়ালের ছয় রোজা (Six fasts of Shawwal) বা অন্য কোনো নফল রোজার চেয়ে কাজা রোজা আদায় করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারো ওপর কাজা বাকি থাকলে আগে তা আদায় করে এরপর নফল রোজা রাখা উচিত।

রোজা ভঙ্গের কাফফারা ও তার পদ্ধতি (Penalties for Breaking Fast)

যদি কেউ কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা যৌনমিলনের মাধ্যমে রোজা ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। কাফফারা আদায়ের পদ্ধতিগুলো হলো:

ধারাবাহিক রোজা: কাফফারার নিয়তে একটানা ৬০টি রোজা (60 consecutive fasts) রাখতে হবে। মাঝে একদিন বিরতি দিলেও পুনরায় শুরু থেকে গণনা করতে হবে। তবে নারীদের ঋতুস্রাবের (Menstruation) কারণে বিরতি হলে ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে না।

আরও পড়ুন:

দরিদ্রকে আহার করানো: যদি কেউ শারীরিক অক্ষমতার কারণে ৬০টি রোজা রাখতে না পারেন, তবে তাকে ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে (60 poor people) দুই বেলা পেটপুরে আহার করাতে হবে।

আর্থিক দান: আহার করানোর পরিবর্তে ৬০ জন দরিদ্রকে দুই বেলার খাবারের সমপরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। এ বছর সদকায়ে ফিতরের (Sadaqatul Fitr) সর্বনিম্ন পরিমাণ ১১০ টাকা হলে, ৬০ জনের জন্য মোট ৬৬০০ টাকা দান করলে কাফফারা আদায় হবে।

রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। তাই কোনো কারণে রোজা ছুটে গেলে দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (Repentance) করে কাজা ও প্রয়োজনে কাফফারা আদায় করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন:

এসআর