রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল অন্যান্য দিনের আমলের তুলনায় উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? রাসুল (সা.) বললেন, জিহাদও নয়; তবে সে ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়ে জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯১৮)
জাহান্নাম থেকে মুক্তির মহিমান্বিত দিন (Day of Salvation from Hellfire)
পবিত্র আরাফার দিনে মহান আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তা’আলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন (Maximum Freedom from Hellfire)। আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের নিকটবর্তী হন, অতঃপর ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করে বলেন তারা কী উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে?” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩১৭৯)
আরও পড়ুন:
আরাফার দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া (The Best Dua for the Day of Arafah)
এই পবিত্র দিনে নবীজি (সা.) নিজে একটি বিশেষ দোয়া সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন এবং পূর্ববর্তী নবীগণও এই দোয়াটি পড়তেন। হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন “সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিনের দোয়া (Best Supplication of Arafah)।”
আরবি দোয়া: لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বদির।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তার জন্য, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)
১টি রোজায় ২ বছরের গুনাহ মাফ! (Forgiveness of 2 Years Sins by 1 Fasting)
যারা হজে যাননি বা সাধারণ মুসলিম, তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নাত। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আরাফাত দিবসের সাওম (রোজা) সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তা পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের (২ বছর) গুনাহের কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে (Expiation of Sins for Previous and Next Year)।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১৭)
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে আরাফার রোজা কবে? (Date of Arafah Fasting 2026 in Bangladesh)
জিলহজ মাসের চাঁদের ওপর ভিত্তি করে মূলত ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখতে হয়। হাজিরা যেদিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন (Wuquf al-Arafah), সেদিনই মূলত এই রোজা রাখার নিয়ম।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার ও চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে এবং পরদিন ২৭ মে (বুধবার) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার রোজা হবে ২৭ মে ২০২৬, বুধবার। এর পরদিন ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। মনে রাখতে হবে, আরাফার রোজা মাত্র একটি, দুটি বা তিনটি নয়।
একনজরে হজের দিনক্ষণ ও বাংলাদেশে আরাফার রোজার সময়সূচি (Hajj & Arafah Day Schedule 2026)
ইসলামিক দিবস (Islamic Day)
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য (Saudi Arabia & Middle East)
বাংলাদেশ সময় ও তারিখ (Bangladesh Date & Timing)
আরাফার দিন (৯ জিলহজ)
২৬ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার - হজের দিন)
২৭ মে ২০২৬ (বুধবার - আরাফার রোজা রাখার দিন)
ঈদুল আজহা (১০ জিলহজ)
২৭ মে ২০২৬ (বুধবার - কোরবানি ঈদ)
২৮ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার - পবিত্র কোরবানির ঈদ)
আরও পড়ুন:




