শুধু আরাধনা নয়, পূজার আয়োজনেও নারীরাই অগ্রণী

দেবি দুর্গা ও একজন নারী
ধর্ম ও বিশ্বাস
0

দুর্গাপূজা মাতৃশক্তির আরাধনা, এমনটাই বিশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। অথচ পূজার আয়োজনের নানা ক্ষেত্রে নারীরা থাকেন আড়ালে। সেই চিত্র বদলে দিয়েছেন কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার একদল নারী। চাঁদা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কেনাকাটা, পূজার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, সব দায়িত্বই পালন করছেন তারা। নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্থানীয়দের।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার এই মন্দিরে দুর্গাপূজা শুরু ১৯৯১ সালে। তবে একপর্যায়ে নানা কারণে আয়োজন ঝিমিয়ে পড়লে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় পূজা। ২০২০ সালে ‘আমরা পূজারী গোষ্ঠী’ নামে পূজার দায়িত্ব নেন এলাকার নারীরা। এরপর থেকে প্রতিবছর পূজার আয়োজন থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারী। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা নারীশক্তির প্রতীক। অসুর বধে দেবীর আবির্ভাব যেমন শক্তি ও সাহসের বার্তা দেয়, তেমনি সমাজে নারীরাও সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন। পুরুষের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় থেকেই তাদের এ উদ্যোগ।

আয়োজকরা জানান, এখানে নারীরা মিলে সব কাজ করে থাকি। প্রতিমা তৈরিতেও রয়েছে নারীদের অবদান।

পূজার কেনাকাটা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা সংগ্রহসহ সব কাজই করেন তারা। আয়োজকদের ভাষ্য, দেবী দুর্গার যেমন দশ হাত, তেমনি নারীরাও সামলাতে পারেন বহু দায়িত্ব। তাই পূজার আয়োজনেও পিছিয়ে থাকতে চান না তারা।

নারীদের উদ্যোগে দুর্গা পূজার এমন আয়োজন করায় স্বাগত জানিয়েছে মন্দির কমিটির সভাপতিও।

আড়ুয়াপাড়া পূজারী গোষ্ঠী মন্দির কমিটির সভাপতি শিব্রত বসু বলেন, ‘বৌদি-কাকিমা তারা সবাই মিলে কাজ করে। আমাদের মন্দিরটি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে।’

নারীদের এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে স্থানীয়দের। নিজেদের উদ্যোগে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজার আয়োজন করতে পেরে খুশি আয়োজকরাও।

এফএস