সহজলভ্য হচ্ছে এআই ব্যবহার, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের শঙ্কাও

বাড়ছে এআই ব্যবহার
তথ্য-প্রযুক্তি
বিশেষ প্রতিবেদন
0

দেশে সময়ের সঙ্গে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীর সংখ্যা। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এআই ভিক্তিক অপরাধ প্রবণতাও। চ্যাটজিবিটি, জেমিনি, গ্রকসহ প্রায় ৮টি এআই ট্যুলসের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে দেশে। এসব ছাড়াও আছে আরও শক্তিশালী এআই মডেল- যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের শিক্ষা, চাকরি ও শোবিজ অঙ্গনেও। তবে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে বৈশ্বিক এআই পলিসি গ্রহণ জরুরি বলছেন প্রযুক্তি ও এ বিশেষজ্ঞরা।

এখন টেলিভিশনের স্টুডিওতে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও। এমন ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ট্যুলস ব্যবহার করে বানানো হয়েছে।

এরকম আরও অনেক ধরনের ভিডিও তৈরি করে স্যোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে- যা দেখে অনেকক্ষেত্রে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

আর রিউমার স্কানারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শোবিজের ২৯ নারীকে জড়িয়ে ছড়ানো হয় ৬৮টি গুজব ও অপতথ্য। এর মধ্যে ৫০টি ভিডিও কনটেন্টে ছিলো এআই’র ব্যবহার।

প্রশ্নের উত্তর জানতে রাজধানীতে প্রায় ১০০ এআই ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলা হয়। জানতে চাওয়া হয়- কোনো এআই ট্যুলের ব্যবহার বেশি। আর ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বা কেমন- এমন প্রশ্নে মেলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর।

ব্যবহারকারীদের তথ্যমতে, দেশে ৮ ধরনেরও বেশি এআই ট্যুলসের ব্যবহার আছে। এর মধ্যে টেক্সট এবং কনটেন্ট রাইটিং টুলস হিসেবে চ্যাটজিপিটি, ক্লড এআই, গুগল জিমিনি, কপি ডট এআই, গ্রক এআই এর ব্যবহার সব থেকে বেশি। শুধু টেক্সট এবং কন্ট্রন্ট নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি তৈরির কাজেও ব্যবহার হচ্ছে এসব ট্যুলস। বিশেষ করে এ প্রবণতা তরুণদের বেশি।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এআই তো শুধু মাত্র একটা ধারণা দিয়ে থাকে। আর মাঝে মধ্যে তো ভুল ইনফমেশনও দিয়ে থাকে। তখন সমস্যায় পরতে হয় আমাদের।’

আরও পড়ুন

এসব এআই ট্যুলস ছাড়াও কোপাইলট, মিডজার্নি, ডল-ই থ্রি, সেরা টু, রানওয়ে জেন ফোর পয়েন্ট ফাইভ, গুগল ভিও থ্রি ডটসহ আরও অন্তত ডজন খানেক শক্তিশালী এআই ট্যুলস রয়েছে। দেশে এসব ট্যুলসের পেইড ভার্সন ব্যবহারকারী থাকলেও সংখ্যায় অনেক কম। বেশির ভাগ মানুষ একাকিত্ব দূর করার জন্যই এআই ব্যবহার করছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের ধরণ অনুযায়ী একেকটি এআই ট্যুলসের ব্যবহার একেক রকম। ফলে কাজের দিক থেকে কোনো এআই ট্যুলস সেরা তা বিবেচনা করা খুবই কঠিন।

ওয়াশিংটন ইউিইভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর খন্দকার মামুন বলেন, ‘বর্তমানে সে মাধ্যমটিকে সেরা বলছি। এক মাস পরেই কিন্তু আরেকটি মাধ্যম আসবে তাই বলা যায় না কোনটা সেরা। কোনো একটি ট্যুলসকে বলা যাবে না এটাই সেরা।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধের ভয়াবহতা যেমন আছে তেমনি আগামী শিক্ষা শিল্প ও আধুনিক সিনেমা জগতেও পড়তে পারে এআইয়ের প্রভাব বলছেন এআই প্রযুক্তির ওপর কাজ মরা বিশেষজ্ঞরা। ফলে বৈশ্বিক ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

আগামীতে শিক্ষা সংস্কৃতির ওপরেও পরতে পারে এআই’র প্রভাব বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষক ওবায়দুল রহমান রবিন বলেন, ‘ব্যক্তির তার প্রয়োজনে কিংবা তার জন্য যে মাধ্যমটি ভালো সেটিই সে ব্যবহার করবে।’

দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এআই রেগুলেশন তৈরি প্রয়োজন মনে করেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

প্রফেসর খন্দকার মামুন বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমাদের দেশে এআই ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন পর্যন্ত এআই’র খারাপ দিকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো না।’

ওবায়দুল রহমান রবিন বলেন, ‘দেশে এআই ব্যবহারকে নির্দিষ্ট আইনের নিয়ে আসা।’

জেআর