প্যারাগুয়ের ত্রাতা অরলান্ডো গিল; বীরত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্য এক গল্প

অরলান্ডো গিল
এখন মাঠে
0

কাই হাভার্টজ, নিকোলাস ভোল্টমেড. অরলান্ডো গিলের বিশ্বস্ত হাত ফিরিয়েছে দুজনকেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্যারাগুয়ে তার সবচেয়ে বড় সফলতার গল্প লিখেছে একজন গোলরক্ষকের জোড়া হাতে ভর করে। নিজ দেশে তো বটেই, বিশ্ব জানে প্যারাগুয়ের একজন অরলান্ডো গিল আছে। অথচ, এ বীরত্বের পেছনের গল্পটা একেবারেই ভিন্ন।

২৬ বছর বয়সী এ গোলরক্ষক মাত্র ৪ বছর আগেও ছিলেন তীব্র অর্থকষ্টে। নিজের অকালে জন্ম নেয়া শিশুর ব্যয় মেটানোও ছিল দুঃস্বপ্নের সমান। পরিবারকে চালিয়ে নিতে নিজের খেলার সব সামগ্রীই বিক্রি করে দিয়েছিলেন গিল। এমনকি নিজ দেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলা জার্সিটাও সংগ্রহে রাখতে পারেননি তিনি। হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে নিলামে তুলে বিক্রি করেছেন জার্সি। স্ত্রী মেলিসা সেই কথা গেল বছরই উল্লেখ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

প্যারাগুয়ের বিভিন্ন ক্লাবে সেই দুঃসময় পার করে আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোতে যোগ দেন অরলান্ডো গিল। তবে, সেটাও ছিল রিজার্ভ দলে। পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২৫ সালের শুরুতে প্রথম দলে জায়গা পাকা করেন। নজরে আসেন জাতীয় দলের কোচ গুস্তাভো আলফারোর। এরপর থেকে প্যারাগুয়ের গোলবার সামলেছেন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে। চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক সবশেষ জার্মানিকে বিদায় করেছেন শ্যুটআউটে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে।

আর এমন পারফরম্যান্সের পর দেশবাসীকেই স্মরণ করেছেন গিল। দেশকে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেয়ার তৃপ্তি ঝরলো কণ্ঠে। সেইসঙ্গে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সতীর্থদের।

বিশ্বকাপে পরের ম্যাচে ফ্রান্স এবং সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে প্যারাগুয়ে। জার্মানিকে বিদায়ের পর সেই ম্যাচেও হয়ত অরলান্ডো গিলের গ্লাভসের দিকেই তাকিয়ে থাকবে লাতিনের দেশটি।

এএম