ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ! প্রতিপক্ষ যখন বার্সেলোনা আর পিএসজি তখন মাঠের লড়াইয়ে রোমাঞ্চের কমতি থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক। পার্ক দেস প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফুটবলীয় মহারণ রূপ নিলো এক চরম নাটকীয়তায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে কাঁপে দুই দলের রক্ষণভাগ। বিরতিতে যাওয়ার আগমুহুর্তে দুয়েরের এক দারুণ শটে লিড নেয় লুইস এনরিকের শিষ্যরা। ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। বার্সার তরুণতুর্কি জাভি এস্পার্তের গোলে সমতায় ফেরে কাতালানরা। এরপর লুকাস হার্নান্দেজ পিএসজিকে আবারও এগিয়ে নিলে বেশিক্ষণ তা স্থায়ী হয়নি। লামিন ইয়ামালের এক জাদুকরী গোলে ম্যাচ ২-২ সমতায় টানে বার্সা। নাটক তখনও অনেক বাকি। শেষ ১০ মিনিটে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় পিএসজির আক্রমণভাগ। ৮১ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ভিতিনহা এবং ৮৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৪-২ ব্যবধানের এক দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এই হারের মাধ্যমে বার্সেলোনার টানা ১১ ম্যাচের জয়রথ থামাল পিএসজি। এ জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে পিএসজি।
অন্যদিকে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে অলরেডদের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে লিভারপুল সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত হতাশ করেননি ভার্জিল ফন ডাইকরা। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই লিখেছে আন্দোনি ইরাওয়ালা শিষ্যরা। বিরতির আগে এবং পরে সবমিলিয়ে ভিয়ারিয়ালের তিন গোলের বিপরীতে ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোলসহ রোনাল্ড আরাউজো, ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নৈপুণে স্কোরলাইন হয় ৪-৩।
রাতের অন্য ম্যাচে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের শুরুতে আধিপত্য বিস্তার করে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির এই গোল উৎসবের মহানায়ক ছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ফোডেনের হ্যাটট্রিক ছাড়াও সিটির হয়ে বাকি গোলগুলো করেন অ্যান্ডারসন এবং রায়ান। এইকে এথেন্স ম্যাচের শেষ দিকে সান্ত্বনাসূচক একটি গোল পেলেও তা সিটির বিশাল জয়ের আনন্দে কোনো বাধা হতে পারেনি।





