সাফ অনূর্ধ্ব-২০ আসরে প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই প্রতিভা দলগত সমন্বয়ে রূপ নিতে পারেনি পুরোপুরি।
বয়সভিত্তিক দল হলেও সময় স্বল্পতার কারণে টিম বন্ডিংয়ে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সাবেক ফুটবলার এমিলি জানালেন, লোকাল ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের মিশেলে দলটি গড়া হলেও বোঝাপড়া তৈরি হয়নি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ এর যে দলটা, সেখানে দেখেন প্রবাসী এবং দেশের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে যে দলটা হয়েছে, সেটা খুব শক্তিশালী হয়েছে। তবে সময়টা খুব কম ছিল। কোচিং স্টাফরা আসলে বেশি ট্রেনিং সেশন পায়নি।’
দলের ভেতরে ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সুলিভানকে শুরু থেকে না খেলানো কিংবা কোচের কৌশল নিয়ে বিতর্ক এসবও প্রভাব ফেলেছে পারফরম্যান্সে। অল্প সময়ে নির্দিষ্ট প্লেয়িং স্টাইল দাঁড় করানোর তাগিদ দিলেন এমিলি।
এমিলি বলেন, ‘যদি প্রথমার্ধের খেলা দেখেন, সেখানে দেখবেন বাংলাদেশ দলের টিম কম্বিনেশন, পাসিং, বন্ডিং, প্লেইং স্টাইল বা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া কিছুটা কম ছিল।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা গেছে যে, রোনান সুলেভান অনেকটাই ফ্রি স্পেসে আছে, কিন্তু তাকে বল পাস দেয়া হচ্ছে না। তবে গোল দেয়ার পর খেলাটা বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাই গোল দেয়া এবং টিম কম্বিনেশন সাজানোটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যখন আপনি গোল দিতে পারবেন না, তখন খেলোয়াড়দের খেলার ধরন একরকম থাকে না। সুতরাং এটার পুরোটাই কোচের ওপর নির্ভর করে।’
জাতীয় সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর ম্যাচ। দুই দলের বিপক্ষে খেলার কৌশল কেমন হওয়া উচিত তা বাতলে দিলেন সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক।
তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচটাতে শতভাগ উজাড় করে দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। এখানে যেন ম্যাচের প্রস্তুতিতে ভালোভাবে কাজ করে। কারণ এখানে কোনো ইনজুরি হলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’
জাতীয় দলে তপু বর্মন ও রাকিবের অনুপস্থিতি কিছুটা চিন্তার কারণ হলেও, দলগত পারফরম্যান্স দিয়েই সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে। সাবেক ফুটবলার মানিকের মতে, ম্যাচ অনুযায়ী পরিকল্পনা আর ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ ক্যাবরেরার দর্শন নিয়েও জানালেন নিজের অভিমত।
শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘লোকাল খেলোয়াড়দের মাঝেমধ্যে মনোযোগের ঘাটতি হয়ে যায় কিছু সেকেন্ডের জন্য। সে কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোলগুলো কনসিড করতে হয়। এই জায়গায় আমার মনে হয় কাজ করার বিষয় আছে। এটা শুধু কোচ নয়, খেলোয়াড়দেরও ভাবতে হবে।’
সমন্বয় আর সময় এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে পারলেই, বাংলাদেশ ফুটবল দল হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের বড় শক্তি এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





