শুনতে অদ্ভুত শোনালেও, নিখুঁত ও বিতর্কহীন ম্যাচ উপহার দিতে ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলে এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের নতুন বল 'ট্রিওন্ডা' এবং কানেক্টেড টেকনোলজি (Adidas Trionda Connected Ball Technology)
১৯৭০ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপের বল তৈরি করে আসছে বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস (Adidas)। ২০২৬ আসরের জন্য তাদের তৈরি করা বিশেষ বলটির নাম দেওয়া হয়েছে ট্রিওন্ডা (Trionda)। এই বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত আধুনিক 'কানেক্টেড বল টেকনোলজি', যা মাঠের রেফারিদের যেকোনো কঠিন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চোখের পলকে নিখুঁতভাবে নিতে সাহায্য করবে।
বলের ভেতরে কী আছে? যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি (How World Cup Smart Ball Sensor Works)
বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ চামড়ার ফুটবল মনে হলেও, এই স্মার্ট বলের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য বিজ্ঞান:
৫০০ হার্জ মোশন সেন্সর: বলটির ভেতরে একটি ৫০০ হার্জের ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট সেন্সর চিপ (Inertial Measurement Unit - IMU Sensor Chip) বসানো আছে। একটি ঝুলন্ত বা সাসপেনশন সিস্টেমের মাধ্যমে চিপটিকে বলের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
কাতার বিশ্বকাপের সাথে পার্থক্য: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বলেও চিপ ছিল, তবে সেটির সেন্সর ছিল বলের ঠিক মাঝখানে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন 'ট্রিওন্ডা' বলের সেন্সরটি বসানো হয়েছে বলের ভেতরের এক পাশে।
ভিএআর (VAR) ডেটা ট্রান্সফার: খেলা চলাকালে কোনো খেলোয়াড় যখনই বলে কিক করেন বা স্পর্শ করেন, এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করে সরাসরি মাঠের বাইরে থাকা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (Video Assistant Referee - VAR) সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়। ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইন প্রযুক্তির নিখুঁত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন:
তারহীন চার্জিং পদ্ধতি এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ (Wireless Charging and Battery Life of Football)
যেহেতু বলের ভেতরে সেন্সর রয়েছে, তাই সেটি সচল রাখতে শক্তির প্রয়োজন। আর এই শক্তির জোগান দেয় বলের ভেতরে থাকা একটি ছোট রিচার্জেবল ব্যাটারি।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাইনেক্সন (KINEXON) জানিয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে ভেন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ কাস্টমাইজড চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে বলগুলোকে সম্পূর্ণ তারহীন পদ্ধতিতে চার্জ (Wireless Charging for Football) করা হয়।
চার্জিং সময়: বলটি সম্পূর্ণ ফুল চার্জ হতে সময় নেয় মাত্র ৯০ মিনিট।
খেলার স্থায়িত্ব: একবার ফুল চার্জ দিলে এই বল দিয়ে টানা ৬ ঘণ্টা মাঠে খেলা (6 Hours Battery Backup) সম্ভব।
স্মার্ট স্লিপ মোড: বলটি যখন মাঠের বাইরে বা অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে, তখন এটি নিজে থেকেই 'স্লিপ মোড'-এ চলে যায়। ফলে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইউরো কাপ বা পূর্বের আসরগুলোতে কখনোই চার্জ শেষ হওয়ার কারণে ম্যাচ চলাকালীন বল পাল্টাতে হয়নি।
বলের নকশায় ৩ আয়োজক দেশের ঐতিহ্য (Trionda Ball Design Elements)
প্রযুক্তির পাশাপাশি বলটির চমৎকার ডিজাইনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যৌথ আয়োজক তিন দেশের সংস্কৃতি। বলের গায়ে লাল, সবুজ ও নীল রঙের মিশ্রণ রয়েছে। এর ওপর আইকন হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা (Canada Maple Leaf), মেক্সিকোর ঈগল পাখি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা বা তারা।
আরও পড়ুন:
একনজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মার্ট ফুটবল প্রযুক্তি
প্রযুক্তি ও বৈশিষ্ট্য (Feature & Tech)
কার্যকারিতা ও বিবরণ (Details & Function)
প্রযুক্তিগত তথ্য (Technical Data)
বলের নাম ও নির্মাতা
(Ball Name & Maker)ট্রিওন্ডা (Trionda); তৈরি করেছে বিখ্যাত স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস।
কানেক্টেড বল টেকনোলজি
অভ্যন্তরীণ সেন্সর
(Internal Sensor)বলের এক পাশে একটি ঝুলন্ত মোশন সেন্সর চিপ বসানো থাকে, যা প্রতি কিক ও স্পর্শের ডেটা ট্র্যাক করে।
৫০০ হার্জ IMU চিপ
চার্জিং পদ্ধতি
(Charging System)কাইনেক্সন কোম্পানির কাস্টমাইজড চার্জিং স্ট্যান্ডে রেখে তারহীন বা ওয়্যারলেস উপায়ে চার্জ করা হয়।
সম্পূর্ণ তারহীন (Wireless)
চার্জের সময় ও ব্যাকআপ
(Battery & Power)ভেতরের রিচার্জেবল ব্যাটারি সচল করতে ম্যাচের আগে ৯০ মিনিট চার্জ দিতে হয়। মাঠের বাইরে বলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্লিপ মোডে চলে যায়।
টানা ৬ ঘণ্টা ব্যাকআপ
মূল উদ্দেশ্য
(Main Purpose)বল থেকে সংগৃহীত ডেটা সরাসরি ভিএআর (VAR) সিস্টেমে পাঠিয়ে অফসাইড ও হ্যান্ডবলের নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
১০০% নির্ভুল রেফারিং
ডিজাইন নোট: বলের গায়ে তিন যৌথ আয়োজক দেশের ঐতিহ্য হিসেবে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারা আঁকা রয়েছে।
আরও পড়ুন:





