খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ মোহামেডান, বিতর্কের মধ্যেই মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব
ফুটবল
এখন মাঠে
0

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষ হলেও এখনও খেলোয়াড়দের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। মৌখিক চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের কোনো বকেয়া টাকার দায় নিবে না নির্বাচিত নতুন এই কমিটি। এদিকে নিজস্ব মাঠ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

সৌরভ দেওয়ান। দীর্ঘ চার বছর ধরে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ফুটবল ক্লাবে। সবশেষ মৌসুমে দলের হয়ে ১৩ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ১২টি গোল করেছেন তিনি।

মৌসুম শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। তবে এখনও খেলোয়াড়দের টাকা পুরোপুরি শোধ করেনি দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবটি। যে কারণে বাবা হারা পুরো সংসারের ব্যয়ভার চালানো সৌরভের কপালে চিন্তার ভাজ। এ টাকা আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

সৌরভ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের ওপরেই আমাদের ফ্যামিলির সংসার চলে। তো, এই লাস্ট দুই বছর আমাদের একটু কষ্ট হইছে। কারণ পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে অনেক সমস্যা হইছে। আশা করি এখন মোহামেডান ক্লাবের পরিস্থিতি ভালো এবং দেশের অবস্থা আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে। তো, ভালো কিছু হবে এখন পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। এটা তো ফুটবলের রুলস বাংলাদেশে, দাবি-দাওয়া রেখে তো লাভ নাই। আমাদের তো প্রফেশনাল কন্ট্রাক্ট নাই। বা এজেন্টের মাধ্যমে আমরা কন্ট্রাক্ট করি না যে ফেডারেশনের কাছে ক্লেইম করতে পারবো। তো, এগুলা এভাবেই চলতেছে।’

আরও পড়ুন:

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কারা কী কন্ট্রাক্ট দেয় আমি বলতে পারবো না। আমি দেখিই নাই এখনো। যেমন আমি বলি, আমাদের কোচ, আমাদের অনেক ফিজিওর অনেকেই অনেকের সঙ্গে কিন্তু আমাদের কন্ট্রাক্টই নাই। যেটা আমি ডকুমেন্টারি, সেটা আমি দেখবো। উইদাউট ডকুমেন্ট তো আমি টাকা দিতে পারবো না। দিস ইজ এ লিমিটেড কোম্পানি।’

আসন্ন মৌসুম শুরু হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি থাকলেও খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে মৌখিক আলোচনা শুরু করেছে বেশ কিছু ক্লাব। এর থেকে ব্যতিক্রম নয় মোহামেডান ক্লাবও।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা প্রথম চেষ্টা করবো আমাদের যারা প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, আমাদের প্লেয়াররা যারা ভালো পারফর্ম করছে, এদেরকে আমরা ধরে রাখবো। ওদের সঙ্গে আমাদের কথাও হয়েছে। তাদেরকে আমরা নিষেধ করেছি অন্য কোনো টিমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য।’

কাগজে কলমে পরিকল্পনা শুরু না করলেও মৌখিক আলোচনায় ব্যস্ত ক্লাবটি। তবে ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার কণ্ঠে নতুন শুরুর সুর।

আরও পড়ুন:

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেনা নিয়ে কিন্তু আমরা এ বোর্ড বসেছি। এই টাকাটা আমাদের পে করতে হবে। অলরেডি আমরা পে করে ফেলছি।’

খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন পরিশোধ থেকে মাঠ তৈরিতে সবকিছুতেই রাখতে চান নিজেদের ঐতিহ্যের ছাপ।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘গভর্মেন্টের হেল্প ছাড়া এটা করা যায় না। তো, আমি আশ্বস্ত করতে চাই আপনাদের মাধ্যমে আমাদের সমর্থকদের, অচিরেই আমরা ইনশা আল্লাহ মাঠের ব্যবস্থা আমরা করে ফেলবো। এটা আপনাদের সামনেই আমরা, মানে যেভাবেই হোক আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা বলবো যে, হ্যাঁ আমাদের মাঠ হয়ে গেছে। এটা সাভারে।’

ভবিষ্যতে নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে চমক দেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাবটির।

এসএস