‘কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ফুটবল জীবন ও মৃত্যুর মতো সাধারণ ব্যাপার। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ফুটবল তার চেয়েও বড় কিছু।’
ইংলিশ ফুটবল ক্লাব লিভারপুলের কিংবদন্তি কোচ বিল শ্যাঙ্কলির এই বক্তব্য নিয়ে অনেক বিতর্কই আছে। তবে, ফিলিস্তিনের গাজায় ফুটবল কখনো কখনো সত্যিই জীবন-মৃত্যুর মতোই বড় কিছু। ইসরাইলি আক্রমণের মুখে এখন পর্যন্ত গাজার জনজীবন অনিশ্চিত। তবে সেই ভয় উপেক্ষা করেই বিচ্ছিন্ন এই উপত্যকায় বিশ্বকাপ নিয়ে এসেছে মানবজীবনের অন্যতম সুন্দর কিছু মুহূর্ত। মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে যেখানে হাসিমুখ এনে দেয় একেকটি গোল, সেইভ কিংবা ড্রিবল।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিশরের ওপর বিশেষভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে গাজাকে। আর সেকারণেই বিশ্বকাপে গাজাবাসীর সমর্থন পুরোটাই পাচ্ছে মোহাম্মদ সালাহর দল। ফারাওদের ম্যাচ মানেই গাজার রাস্তায় জড়ো হয়ে ফুটবল উন্মাদনায় যুক্ত হওয়া। মিশরের কোচ হোসাম হাসানও গেল ম্যাচের পর গায়ে জড়িয়েছিলেন ফিলিস্তিনের পতাকা।
আর আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে বললেন, জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠেই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, ‘আমি ইসলাম, ক্রিস্টান কিংবা ইহুদিধর্মের বাইরে গিয়ে কথাগুলো বলছি। আমি যেসব কথা বলছি সেটা বলছি একজন মানুষ হিসেবে। এমন একজন মানুষ, যিনি আর দশজনের
মতোই মারা যায়। আমার ধর্ম কী, আমি আরব নাকি অনারব, আমার পরিচয় কী এসবের চেয়ে বড় কথা আমি একজন মানুষ।’
মিশরীয় কোচের আকুতি, বাঁচতে দেয়া হোক ফিলিস্তিনি নাগরিকদের। অ্যাথলেট আর ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায়।
তিনি বলেন, ‘আমি সকল খেলোয়াড় এবং ভিন্ন ধর্ম আর দেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের কাছে বলতে চাই, বিশেষ করে এ বিশ্বকাপের সময়ে আমরা একটা বার্তা দিতে পারি বিশ্বকে, ফিলিস্তিনের মানুষকে বাঁচতে দিন। বাঁচতে দিন। তারা আর কিছুই চায় না। শুধু বাঁচতে চায়।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মিশরের ফলাফল ছাপিয়ে হোসাম হাসানের আহ্বান, নজর দেয়া হোক ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য।





