বিশ্বকাপে রেফারিরা কত টাকা পারিশ্রমিক পান? (FIFA World Cup Referee Salary & Match Fees)
ফিফার সাম্প্রতিক আসরগুলোর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, একজন রেফারি পুরো টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করে কোটি টাকার ওপরে আয় করেন। পারিশ্রমিকের বিস্তারিত কাঠামো নিচে দেওয়া হলো:
- ১. প্রধান রেফারি (Main Referee Salary): একজন প্রধান রেফারির মূল টুর্নামেন্ট ফি (Tournament fee) ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা)। এর পাশাপাশি তিনি ম্যাচপ্রতি পান ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩.৫ থেকে ৬ লাখ টাকা)। অর্থাৎ, একটি বিশ্বকাপ আসর থেকে প্রধান রেফারিরা ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেন।
- ২. সহকারী রেফারি (Assistant Referee Fees): সহকারী রেফারিদের (লাইন্সম্যান) টুর্নামেন্ট ফি ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ডলার (প্রায় ৩০ থেকে ৪২ লাখ টাকা) এবং ম্যাচপ্রতি ফি ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলার (প্রায় ২.৫ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা)।
- অন্যান্য সুবিধা: রেফারিদের যাতায়াত (ভ্রমণ), ফাইভ স্টার আবাসন (হোটেল খরচ) এবং দৈনিক অন্যান্য সব খরচ সম্পূর্ণভাবে ফিফা (FIFA) বহন করে।
আরও পড়ুন:
একজন রেফারি যেভাবে বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হন (How to Become a FIFA World Cup Referee)
চাইলেই যে কেউ বিশ্বকাপের ম্যাচে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পান না। এর জন্য দীর্ঘ এক পেশাদার পথ পাড়ি দিতে হয়:
- ১. প্রাথমিক ধাপ: স্থানীয় বা জেলা পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু।
- ২. লাইসেন্স অর্জন: নিজ দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল লাইসেন্স অর্জন।
- ৩. শীর্ষ লিগ: দেশের শীর্ষ ঘরোয়া লিগে (যেমন প্রিমিয়ার লিগ) ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করা।
- ৪. ফিফা লিস্ট: জাতীয় ফেডারেশনের সুপারিশে 'ফিফা ইন্টারন্যাশনাল রেফারি লিস্ট' (FIFA International Referee List)-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
- ৫. আন্তর্জাতিক ম্যাচ: মহাদেশীয় বড় বড় প্রতিযোগিতা (উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা আমেরিকা, এএফসি) পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন।
সবশেষে, ফিফা রেফারি কমিটি (FIFA Referee Committee) চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করে বিশ্বকাপের জন্য রেফারি প্যানেল প্রস্তুত করে।
আরও পড়ুন:
ফুটবল ম্যাচে রেফারির ফিটনেস ও ক্ষমতা (Referee Fitness Test & On-Field Power)
- শারীরিক সক্ষমতা: একটি ৯০ মিনিটের ম্যাচে একজন রেফারিকে সাধারণত ১০ থেকে১৩ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। বড় ম্যাচে এটি ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা একজন মিডফিল্ডারের সমান। এর জন্য তাদের ৪০ মিটার স্প্রিন্ট ও ইয়ো-ইয়ো টেস্টের (Yo-Yo endurance test) মতো কঠিন ফিটনেস পরীক্ষায় নিয়মিত পাস করতে হয়।
- চূড়ান্ত ক্ষমতা: মাঠের আইন অনুযায়ী রেফারির সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ (Referee decision is final)। তিনি যেকোনো খেলোয়াড় বা কোচকে লাল কার্ড (Red card) দেখাতে পারেন, এমনকি আবহাওয়া বা দর্শক দাঙ্গার কারণে ম্যাচ স্থগিত বা বাতিলও করতে পারেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) তাকে পরামর্শ দিলেও, মাঠের মনিটরে গিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের একমাত্র ক্ষমতা প্রধান রেফারির।
আরও পড়ুন:
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত রেফারি (Most Famous Football Referee in History)
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রেফারি হলেন ইতালির পিয়েরলুইজি কোলিনা (Pierluigi Collina)। তাঁর টাকমাথা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং মাঠের অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে খেলোয়াড়রা তাকে সমীহ করে চলত। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল (2002 World Cup Final) পরিচালনা করেছিলেন তিনি, যা ফিফার ইতিহাসের সেরা রেফারিং হিসেবে বিবেচিত। ১৭ বছর বয়সে রেফারি কোর্সে ভর্তি হওয়া কোলিনা বর্তমানে ফিফার রেফারিং কমিটির চেয়ারম্যান (Chairman of the FIFA Referees Committee) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন:
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ও মাঠের রেফারিং বিতর্ক (Argentina vs Egypt Match Referee Controversy)
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিসরের লড়াইয়ে রেফারিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
- বিতর্কের সূত্রপাত: ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থে মিসরের মোস্তাফা জিকো একটি গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (Video Assistant Referee - VAR) পর্যালোচনার পর প্রধান রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। পরে আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
- বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টা শহরের মাঠের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এমনভাবে ছড়িয়েছে যে, বাংলাদেশের যশোরের দড়াটানার মোড়ে গভীর রাতে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে। মিসরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, রেফারিই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জিতিয়ে দিয়েছে।
- কে ছিলেন সেই রেফারি?: এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রধান রেফারি ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে (Francois Letexier referee)। ২০২৪ সালের উয়েফা ইউরো ফাইনাল সফলভাবে পরিচালনার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি অন্যতম শীর্ষ রেফারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিফা বিশ্বকাপে একজন রেফারি কত টাকা পান? পারিশ্রমিক ও ভাতার বিবরণ
একনজরে: FIFA World Cup Referee Salary, Match Fees & Allowances Structure
প্রধান রেফারি
$৫০,০০০ - $৭০,০০০ মার্কিন ডলার
$৩,০০০ - $৫,০০০ ডলার
সহকারী রেফারি / লাইন্সম্যান
$২৫,০০০ - $৩৫,০০০ মার্কিন ডলার
$২,০০০ - $৩,০০০ ডলার
চতুর্থ রেফারি
$২৫,০০০ - $৩৫,০০০ মার্কিন ডলার
$২,০০০ - $৩,০০০ ডলার
ভিএআর রেফারি দল
$২৫,০০০ - $৩৫,০০০ মার্কিন ডলার
$২,০০০ - $৩,০০০ ডলার
• ভ্রমণ ও বিমান টিকিট: রেফারিদের বিজনেস ক্লাসের বিমান টিকিট ও যাতায়াত খরচ সম্পূর্ণ ফিফা বহন করে।
• আবাসন ও হোটেল: টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা এবং খাওয়ার যাবতীয় খরচ ফিফা দেয়।
• দৈনিক ভাতা (Daily Allowance): টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিদিনের ব্যক্তিগত খরচের জন্য অতিরিক্ত দৈনিক পকেট ভাতা দেওয়া হয়।
• মোট আয়: সব ম্যাচ ফি এবং বেসিক ফি মিলিয়ে একজন সফল প্রধান রেফারি এক আসর থেকেই ১ কোটি টাকার বেশি আয় করতে পারেন।
রেফারির পদবি
(Match Officials)বেসিক টুর্নামেন্ট ফি
(Basic Tournament Fee)ম্যাচ প্রতি ফি
(Match Fee)
(Main Referee)
(প্রায় ৬০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা)
(ম্যাচ প্রতি ৩.৫ থেকে ৬ লাখ টাকা)
(Assistant Referee)
(প্রায় ৩০ থেকে ৪২ লাখ টাকা)
(ম্যাচ প্রতি ২.৫ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা)
(Fourth Official)
(সহকারী রেফারির সমপরিমাণ)
(ম্যাচ প্রতি আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ)
(VAR Officials)
(ফিক্সড টুর্নামেন্ট ফি)
(ভিডিও বিশ্লেষণের ম্যাচ প্রতি ফি)
ফিফা প্রদত্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সব খবর সবার আগে পেতে ,ক্লিক করুন এখানে,।
আরও পড়ুন:





