মাঠে বল দখলের লড়াই, কোচের কড়া নির্দেশনা আর ফুটবলারদের চোখে মুখে এশিয়ার কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে লড়াই জেতার ইচ্ছে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচকে সামনে রেখে এভাবেই ঘাম ঝরাচ্ছেন ফর্টিস এফসির ফুটবলাররা। ঘরোয়া লিগে তৃতীয় হওয়া এই দলটির সামনে এবার এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। ঘরের মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় তাদের প্রতিপক্ষ কিরগিজিস্তানের শক্তিশালী ক্লাব মুরাস ইউনাইটেড।
দেশের চেনা কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচটি জিতে সরাসরি গ্রুপ পর্বে পা রাখতে চায় ফর্টিস। আর তাই তো স্কোয়াডে শক্তি বাড়াতে জাপান, নাইজেরিয়া এবং গাম্বিয়া থেকে আনা হয়েছে একঝাঁক বিদেশি রিক্রুট।
ফর্টিস এফসির প্রধান কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার বলেন, প্লেয়ার পেয়েছি একটু দেরিতে। বাট ওভারঅল আমরা শেষের দিকে নিজেদের যেভাবে আমরা খেলতে চাই, এটা এখন প্রস্তুতি চলতেছে। ম্যাচের আগে এটা অবশ্যই শেষ হয়ে আসবে। আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবো।
ফুটবলার মানিক বলেন, একটা অ্যাডভান্টেজ আমাদের আছে যে আমরা আমাদের হোম ম্যাচে খেলেছি। এখানে সবকিছু তাদের বিপরীতে, ওয়েদার বলেন সবকিছু তাদের বিপরীতে থাকবে। এদিক দিয়ে আমরা হয়তো একটু আগায়ে থাকবো।
ফর্টিসের হোম ম্যাচ হলেও, অন্য দল বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে দিতে হচ্ছে কঠিন পরীক্ষা। সিরিয়ার শক্তিশালী ক্লাব আল ইত্তিহাদ আহলির বিপক্ষে খেলতে ৮ আগস্ট জর্ডানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে পুলিশ বাহিনী। তবে দেশ ছাড়ার আগে প্রস্তুতির ঘাটতির আক্ষেপ খেলোয়াড়দের কণ্ঠে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ পুলিশ এফসির প্রধান কোচ আসিফুজ্জামান বলেন, এশিয়ান উন্নত দেশগুলোতে ক্যালেন্ডারে থাকে। ধরেন বাংলাদেশে লীগ শেষ হয়ে গেল মে মাসে, দেন আর কোনো টিমের খেলা নেই—সো অফ সিজন। দেড় মাস দুই মাস অফ সিজন থাকে, প্লেয়াররা আউট অফ ট্রেনিং থাকে। তো এই জায়গাটা ওই সমস্ত ক্লাবগুলো ওদের ক্যালেন্ডারে ওদের লীগ শেষ হওয়ার পরেও একটা শর্ট ব্রেক দিয়ে ওদেরকে আবার ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে ট্রেনিংয়ে চলে যায়। সো আমি শুধু ওই জায়গাটার ডিফারেন্স বলছি।
ফুটবলার ইসা ফয়সাল বলেন, যেহেতু অনেক ভালো টিম এবং ওরা সিরিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন পরপর তিনবার, ওদের ওদের মানে ভালো। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব আমাদের যে এই কয়দিনের প্রস্তুতি এবং জুনিয়র-সিনিয়র পুলিশ এফসির এবং ফরেন প্লেয়ার মিলিয়ে, আমরা আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেললে ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারব।
বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর নিষেধাজ্ঞার কারণে কপাল খুলেছে ফর্টিস ও পুলিশের। ঐতিহাসিক এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না কেউই। ১১ আগস্টের সেই মহা লড়াইয়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা কতটা সফল হতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।





