একজন ফুটবলার মাঠের কোন পজিশনে খেলেন, সেটি বোঝাতেই জার্সির পেছনে নম্বর ব্যবহারের সূচনা। তবে কালক্রমে কিছু নম্বর শুধু পজিশনের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। হয়ে উঠেছে আলাদা পরিচয়ের ধারক ও বাহক। যেখানে গুরুত্বের বিবেচনায় সবচেয়ে এগিয়ে ‘নাম্বার টেন’।
১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পেলে পরলেন ১০ নম্বর। তার পায়েই নম্বরটি পেল নতুন পরিচয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতলেন কালো মানিক।
ষাটের দশকে ১০ নম্বর হয়ে উঠলো সেরা খেলোয়াড়ের প্রতীক। যাকে আলাদা মাত্রায় নিয়ে গেলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ঐতিহাসিক দুই গোল। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’, আরেকটি স্বীকৃতি পেলো ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে। ১০ নম্বর জার্সির গুরুত্বও তখন বাড়লো বহুগুণ।
জিনেদিন জিদান ১০ নম্বরকে দিলেন রাজকীয় সৌন্দর্য। তার নান্দনিক ফুটবল শৈলীই যেন হয়ে উঠলো ১০ নম্বর জার্সির সমার্থক শব্দ।
আরও পড়ুন:
১০ নম্বরের আরেক জাদুকর ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদিনহো। ফুটবল নামের ছোট্ট গোলক দিয়ে প্রতিপক্ষদের বোকা বানানো হাতের মোয়া বানিয়েছিলেন তিনি।
তবে ১০ নম্বর জার্সির সেরা খেলোয়াড় কে? এ প্রশ্নের জবাবে হয়তো বর্তমান সময়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা বা বার্সেলোনা তো বটেই, ১০ নম্বর জার্সির কথা উঠলেই সবার আগে মানসপটে ভেসে ওঠে তার নাম।
ফুটবলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ মনে করা এই খেলোয়াড়ের পায়ে বল মানেই যেন ভাবনার বাইরের কোনো চমক। ‘ভিনগ্রহের ফুটবলার’ তকমা তো এমনি এমনি পাননি তিনি। আর তাই যেন মেসির অবসরের পর ১০ নম্বর জার্সি কে পরবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
তবে এই জার্সিতে সেরা খেলোয়াড়দের তালিকা এখানেই শেষ নয়। মিশেল প্লাতিনি থেকে শুরু করে ফেরেঙ্ক পুসকাস, ইয়োহান ক্রুইফ, রবার্তো ব্যাজ্জিও, রিকুয়েলমে, নেইমার বা মদরিচ— ১০ নম্বর জার্সিকে প্রত্যেকেই দিয়েছেন আলাদা মাহাত্ম্য।
আর তাই ফুটবলে ১০ নম্বর এখন শুধু একটি সংখ্যা নয়। এটি একদিকে সৃজনশীলতা, অন্যদিকে দায়িত্বের প্রতীক। বর্তমানে দলের সেরা তারকা আর ভরসাকেই দেয়া হয় এই জার্সি। যে জার্সির পেছনে থাকে সমর্থকদের ভরসা।





